নারায়ণগঞ্জে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি জুবায়েদ স্বপ্নীলের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূর মোহসীন এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান। এর আগে দুপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার রুমা চক্রবর্তীর স্বামী ও অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তীর বাবা রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বলছে, হতাশা, ঋণের চাপ এবং ছিনতায়ের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান জানান, শহরের নিতাইগঞ্জে ডালপট্টির মাতৃ ভবনের ছয়তলার রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর ফ্লাটে আটক জুবায়ের বেলা আড়াইটার দিকে বাসার দরজায় নক করেন। এ সময় রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বাসায় ছিলেন-না। তার স্ত্রী রুমা চক্রবর্তী দরজা দরজা খোলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে জুবায়ের রুমা চক্রবর্তীকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখায় । এসময় রুমা চক্রবর্তী চিৎকার করার তাকে এলোথাড়ি ছুরিকাঘাত করে জুবায়ের। এসময় মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকে ছুরিকাঘাত হত্যা করে । ছেলের বৌ ফারজানা আক্তারকে বটি দিয়ে কোপ দিতে গেলে ফারজানা তাকে ধাক্কা দেয়। এ সময় জুবায়ের মেঝেতে রক্তে স্লিপকেটে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ফারজানা বটি নিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে দৌঁড়ে সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসে। ফারজানাকে মারতে জুবায়ের নীচে নেমে আসে। কিন্তু বাড়ির অন্যান্য ফ্লাটের বাসিন্দারা বের হয়ে এলে জুবায়ের দৌড়ে আবার ছয়তলার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙ্গে জুবায়েরকে আটক করে।

এদিকে গত মঙ্গলবার জোড়া খুনের পুলিশ ওই বাসার ভেতর থেকে ছুরিসহ আল জুবায়েরকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। রাতে গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজমের ইউনিটের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম জানান, জোড়া খুনের পর থেকেই জুবায়ের কিছুটা উত্তেজিত ছিলো। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের এলামেলো কথাবার্তা বলছে। তবে সে লক্ষাধিক টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে। ওই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তার উপর চাপ ছিলো। টাকার জন্যই সে ওই বাড়িতে গিয়েছিলো। তার ধারণা ছিলো ওই বাড়িতে ব্যবসায়ীরা বসবাস করে । সেখানে গেলে টাকা পাওয়া যাবে। 

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সে দুই নারীর কানেরদুল, গলার চেইন ব্যাগে ভরেছিলো। স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সার জন্য বাড়ির আলমারিসহ তছনছ করে খোঁজাখুঁজি করে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, মঙ্গলবার রাতে আসামি জুবায়েরের মা বাবাকে আমরা ডেকেছিলাম। তারা আমাদের জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে জুবায়ের নিজ ঘরে একা সময় কাটাতেন। চুপচাপ থাকতেন। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামি জুবায়েরকে জিজ্ঞাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে খুনের নেপথ্য কারণ বের করা যাবে। তার সঙ্গে অন্যকোন যোগসাজস আছে কিনা তা খুজেঁ বের করা হবে।

উল্লেখ্য গতকাল নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ডালপট্রি এলাকায় মাতৃ ভবনের সাততলা ভবনের ছয়তলার ফ্লাটের ভাড়াটিয়া রুমা চক্রবর্তী ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ঋতু চক্রবর্তীকে উপযপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে জুবায়ের নামের এক যুবক। জুবায়ের নগরীর পাইকপাড়া এলালাকার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের ছেলের।