বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুনরায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগামী মাসেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় গত ১৫ আগস্ট। পরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিআইএফপিসিএল বলছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ৬৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এ পর্যায়ে নিতে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোড টেস্ট করা হবে।

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটে বিভক্ত। আগামী মাসের যেকোনো সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিআইএফপিসিএল।

এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বণিক বার্তাকে বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫ নভেম্বর (গতকাল) রাত ১২টা ১ মিনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে কেন্দ্রটি। এটি পর্যায়ক্রমে ৬৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এ পর্যায়ে নিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। উৎপাদন সফলভাবে এ পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত করার পর সংশ্লিষ্ট জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট আগামী বছরের জুনে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদনে আনার পরিকল্পনা করেছে বিআইএফপিসিএল। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ এরই মধ্যে ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে ১৫ আগস্ট প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল। তবে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে। সে সময় ওই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানলে ন্যাশনাল লোড ডেসপাচের নির্দেশে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলকভাবে (টেস্ট রান) শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেখা হচ্ছে লোড ম্যানেজমেন্টসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোথাও কোনো ত্রুটি হচ্ছে কিনা। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। এর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে চলমান সংকটও অনেকটাই নিরসন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ বিনিয়োগে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) যৌথ কোম্পানি গঠন করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তথ্য অনুযায়ী, রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০১০ সালে। ওই বছরের নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়। এরপর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এনটিপিসি ও বিপিডিবি যৌথ কোম্পানি গঠন করে। এরপর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়। প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান হয় ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি সই হয় ২০১৬ সালের ১২ জুলাই।