বরিশালের শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট চলছে। শনিবার সন্ধ্যায় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে হাফ ভাড়া নিয়ে বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অন্তত ৩০টি বাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এর ফলে ক্ষতিপূরণ দাবি করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা গতকাল সকাল থেকে সব অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন জানান, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু হবে না। আমাদের যে গাড়িগুলো ভাংচুর করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর গাড়ি চলাচল শুরু হবে।’
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তারা। সাইফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘যে গন্তব্যের বাস ভাড়া ছিল ৭০ টাকা ছিল, এখন সেখানে ১২০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
এদিকে বরিশাল নগরীর রূপাতলী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নথুল্লাবাদ বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রূপাতলী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নথুল্লাবাদের ঘটনার প্রভাব শিগগিরই রূপাতলীতেও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘নথুল্লাবাদের ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই রূপাতলী থেকে বাস চলাচলে বাধা তৈরি হবে না।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।’
এদিকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাগেরহাটসহ সাত জেলার ১০টি আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি। গতকাল বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও শহীদ মিনার সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়।
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রূপসা বাগেরহাট বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সরকারি অনুমতি ছাড়া বিআরটিসি ও ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নছিমনসহ সব ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হয়নি। আমাদের এ-সংক্রান্ত তিন দফা দাবি তারা মেনে না নেয়ায় আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১৮টি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়েছে।










