সরকারের নর্থওয়েস্ট ক্রপ ডাইভারসিফিকেশন প্রকল্পের (এনসিডিপি) আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ে ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয় ছয়টি কৃষি মার্কেট। এর একটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ বাজারে। কৃষিপণ্যের অত্যাধুনিক পাইকারি মার্কেটটিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিশ্রামাগার, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থার পাশাপাশি রাখা হয় সুপরিসর হিমাগার। অবিক্রীত পণ্য যাতে সংরক্ষণের সুযোগ পান কৃষক, সেই মার্কেট এখন ব্যবহার হচ্ছে জিম সেন্টার বা ব্যায়মাগার হিসেবে। আর কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে বসতে হচ্ছে পাশেই খোলা আকাশের নিচে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের ছয়টি মার্কেটের মধ্যে সদর উপজেলার ছোট খোঁচাবাড়ির কৃষি মার্কেটটি এখন পরিত্যক্ত। বাকিগুলোও রয়েছে বেদখল। এর মধ্যে মাদারগঞ্জ, লোহাগাড়া, যাদুরাণী, কাতিহারের কৃষি মার্কেট দখল করে চলছে ভাঙারি ও হোমিওপ্যাথি ওষুধের ব্যবসা। হরিপুর উপজেলার কাতিহারের মার্কেট ব্যবহার করা হচ্ছে সাইকেল গ্যারেজ হিসেবে। আর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ বাজারের কৃষি মার্কেটে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জিম সেন্টার খুলেছেন। তার দায়িত্বকালে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) টাকা দিয়ে তিনি এটি খুলেছেন বলে জানা যায়। 

স্থানীয় কৃষকের দাবি, মার্কেটের ভেতরে সব ধরনের সুবিধা থাকলেও তা ব্যবহারে প্রশাসনের উদ্যোগ নেই। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দ্রুতই মার্কেটগুলো কৃষকের ব্যবহারে উপযোগী করার দাবি তাদের। কালমেঘ বাজারের স্থানীয় কৃষক মো. এরশাদ আলী জানান, কৃষি মার্কেটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। এখন রোদ-বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। মার্কেটটি চালু হলে কৃষক বিক্রি না হওয়া ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন, ফসল পচে কৃষকের আর লোকসান হবে না। 

কৃষি মার্কেটটি আবার চালু করার দাবি জানিয়েছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিকও। স্থানীয় এ কৃষক বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম অন্যায়ভাবে মার্কেটটি দখল করে জিম সেন্টার খুলে রেখেছেন। সেখানে সাধারণ মানুষ যায়ও না। তাই প্রশাসনকে মার্কেটটি উদ্ধার করার আহ্বান জানাই।’ 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মার্কেট দখল করে জিম বানানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মার্কেটটি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আওতায়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগসূত্র নেই।’ 

কৃষি মার্কেটে কেন জিম সেন্টার—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০০৪ সালে এনসিডিপি প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি কৃষি মার্কেটের নির্মাণ শুরু হয়। কৃষকের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করা হয় ২০০৭ সালে। মার্কেটটি কৃষকের উন্নয়নে ব্যবহারের চেষ্টাও করেছিলেন তারা। কিন্তু বহু চেষ্টার পরও প্রকৃত কাজে লাগাতে না পেরে বালিয়াডাঙ্গীর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন সেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জিম সেন্টার বানানোর অনুমোদন দেন। এতে যদিও মার্কেটের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।