জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখতে হবে দেশের সব দোকানপাট, বিপণিবিতান ও মার্কেট।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে কাজ করেছেন। তাই যাতায়াতের সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে সেখানে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস সময় ১ ঘণ্টা কমানো হয়েছে। আগামী কার্যদিবস অর্থাৎ রোববার থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস চালু থাকে। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম চালাবে। তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও বিপণিবিতার বন্ধ রাখতে হবে। কিছু জরুরি সেবা অবশ্য এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে। যেমন কাঁচাবাজার, ওষুধ এবং খাবারের দোকান আগের মতোই খোলা রাখতে পারবে। আর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সপ্তাহে ছয়দিনের মধ্যে একদিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ পরিকল্পনা গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল।

ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে, যা রোববার থেকে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে ‘ইলেকট্রিক বাস’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ দেয়া হবে। যেসব স্কুল এ উদ্যোগে যুক্ত হবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোনো পুরনো ইলেকট্রিক বাস আমদানি করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) কেনা যাবে না। একই সঙ্গে কম্পিউটারসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন খরচও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বেসরকারি পর্যায়েও আরোপ করা হয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। এ সময় কোনো ধরনের বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, মান্ত্রিসভার বৈঠকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’-এর খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। ১৯৮০ সালের এ আইনটি সংশোধন করে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের বিচার আরো কঠোর করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি পণ্যটি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।