কর্মসংস্থানের খোঁজে মালয়েশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশী কর্মীদের কাজ না পাওয়া ও অভিবাসন ব্যয় বাড়ায় তাদের দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যার সমাধানে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেন্টস (বিসিএসএম)। একইসঙ্গে মালয়েশিয়ায় কাজ না পাওয়া অভিবাসীকর্মীদের অধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বুধবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানান অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা ২৩ সংগঠনের মোর্চা বিসিএসএম। সংগঠনের চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী এবং কো-চেয়ার সৈয়দ সাইফুল হক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের পর হতে যেসব বাংলাদেশী কর্মের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া গেছেন তাদের একাংশের দুর্ভোগ গত কয়েক মাস ধরে উদ্বেগের সঙ্গে বিসিএসএম পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশের সিন্ডিকেটভুক্ত কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার এমন কিছু কোম্পানিতে কর্মী পাঠিয়েছে যাদের কর্মী নিয়োগের সক্ষমতা নেই এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই নামের কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও হাজার হাজার বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া যাবার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে রেখেছেন এবং কলিং ভিসা নিয়ে ভিসা স্ট্যাম্পিং, ই-ভিসার জন্য মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষা করছেন।
এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের ঐ দেশের সরকার ও কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিসিএসএম দাবি জানাচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশী দূতাবাসের শ্রম উইংকে আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানির ডিমান্ড লেটার ভেরিফিকেশন ও অনুমোদন করার বিষয়ে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে কর্মীরা যদি প্রতারিত হয় তাহলে উভয় দেশের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তার দায়িত্ব গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিসিএসএম মনে করে, বর্তমানে আনোয়ার বিন ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত মালয়েশিয়ান সরকারের বাংলাদেশী শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা বিভিন্ন সময়ে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সুযোগ ব্যবহার করে এ দুরবস্থার আশু নিরসনকল্পে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সকল প্রকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিসিএসএম মনে করে, সাম্প্রতিক এ ঘটনা সমূহের প্রেক্ষিতে সরকার সিন্ডিকেট ব্যবস্থায় শ্রমিক প্রেরণের কুফল সম্পর্কে অবহিত হবে এবং ১৯৯৭ ও ২০০৭ সালের মতো ভবিষ্যতে এ ধরণের নিয়োগব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিসিএসএমের সদস্য সংগঠনের মধ্যে রয়েছে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু), ওয়্যার্বি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, বাংলাদেশী অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন (বমসা), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাসুগ, অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), ইমা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক অব অল্টারনেটিভ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন (ইনাফি) বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কন্সট্রাকশন অ্যান্ড উড ওয়ার্কারস ফেডারেশন (বিসিডব্লিউডব্লিউএফ), ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা), বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরাম (বোয়াফ), বাস্তব, রাইটস যশোর, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন্স (ডেভকম) লি., ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন, চেঞ্জ মেকার্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ লেবার স্টাডিস (বিআইএলএস), অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিইউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি), সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসিস্টেন্স (সিসিডিএ), বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে)।










