প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক জনসভায় তিনবিঘা করিডোর এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ট্রেনটি পরিচালনা শুরু করতে পারেনি রেলপথ মন্ত্রণালয়। ট্রেন সার্ভিস চালু না হওয়ায় হতাশ লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর চলাচলে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বিঘা করিডোর গেট দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এদিন পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বুড়িমারী স্থলবন্দর-ঢাকা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের জন্য তিন বিঘা করিডোর এক্সপ্রেস ট্রেন চালুসহ ১০টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন সংগঠন অতিক্রমের আহ্বায়ক হেলাল হোসেন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে সদর দপ্তরের অবহেলার কারণে আগের সরকারি এ সেবা প্রতিষ্ঠানটি জৌলুস হারাচ্ছে। ২০১১ সালে বুড়িমারী-ঢাকা রুটে সরাসরি তিন বিঘা করিডোর এক্সপ্রেস নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ ১৩ বছরেও ট্রেনটি চালু করতে পারেনি লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়। আদৌ কি ট্রেনটি চালু করতে পারবে রেলপথ মন্ত্রণালয়?’

বুড়িমারী স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা রুটে অসংখ্য যাত্রী ভারত-নেপাল-ভুটান যাতায়াত করছে। ব্যবসায়ীরা বুড়িমারী স্থলবন্দরে আসেন বাণিজ্যের জন্য। বুড়িমারী-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন তিন বিঘা করিডোর এক্সপ্রেস চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বাণিজ্যিকভাবে রেলওয়ে লাভবান হবে।

ট্রেনটি বুড়িমারী থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে বুড়িমারী রুটে পরিচালনার কথা বিভিন্নভাবে শুনেছেন বলে দাবি করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ট্রাফিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন বিঘা করিডোর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালানোর জন্য দাপ্তরিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের কিছুই করার নেই।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (রাজশাহী) চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আহসান উল্ল্যা ভূঁঞা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বুড়িমারী-ঢাকা রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোর জন্য কোচ এবং লোকোমোটিভ চাওয়া হয়েছে। এখনো সেই কোচ ও লোকোমোটিভ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ট্রেনটি এ মুহূর্তে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা চেষ্টা করছি।’

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বুড়িমারী-ঢাকা রুটে প্রস্তাবিত ৮০৯/৮১০ নম্বর একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর জন্য কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বরে ট্রেনটি চালু করা জন্য। প্রস্তাবিত ট্রেনটি তিন বিঘা করিডোর এক্সপ্রেস নাকি বুড়িমারী এক্সপ্রেস নামে চালানো হবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’