নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসায় ১৯৮১ সালে বাগেরহাটে নির্মাণ করা হয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। উপকূলীয় অঞ্চলটির গর্ভবতী নারী ও শিশুদের সুচিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ২০ শয্যার এ হাসপাতাল। তবে পর্যাপ্ত নার্স, শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক এবং প্রসূতি মায়েরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে মূলত মা ও শিশুদের সেবা দেয়া হয়। গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং শূণ্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের যত্নের মতো সেবাগুলো দেয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ ও কাউন্সেলরদের সহায়তায় মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা, যেমন টিকাদান, ভিটামিন ও আয়রন ট্যাবলেট বিতরণ এবং পরিবার পরিকল্পনাসংক্রান্ত পরামর্শও দেয়া হয়। সারা দেশে ১৫৯টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু করার কথা থাকলেও জনবল সংকটে অনেক কেন্দ্র এখনো চালু হয়নি বা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শহরের আলিয়া মাদ্রাসা সড়কে প্রায় চার দশক আগে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসে প্রসূতি মা ও শিশুরা। তবে অবকাঠামো ও চিকিৎসা সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মাসুদ আল ইমরান জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার পরও সংযুক্ত কয়েকজনকে দিয়ে মোটামুটি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হলে ডাক্তার ও নার্স পদায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকা থেকে রইসা বেগম নামে এক নারী তার সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। তবে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যান তিনি।
হাঁড়িখালী এলাকা থেকে কাকলী বেগম এসেছেন তার সন্তানের টিকা কার্ড নেয়ার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় তাকেও ফিরে যেতে হয়েছে।
সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে ভালো ডাক্তার পাওয়া যেত। ভালো সেবাও পেতাম। এখন এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নাজমা আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একদিকে হাসপাতালের ভবনটি জরাজীর্ণ। ঝুঁকি নিয়ে আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধান হলে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে মা ও শিশুরা।’
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০ শয্যার হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার-ক্লিনিক এবং মেডিকেল অফিসার-অ্যানেস্থেসিয়া), একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, দুজন সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট, একজন পিয়ন কাম চৌকিদার, একজন গাড়িচালক ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ আটটি পদ রয়েছে। এসব পদের মধ্যে চিকিৎসক, ফিমেল মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ও পরিকল্পনা পরিদর্শিকার পদগুলো শূন্য রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বশিরুল বসির খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সারা দেশেই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্স সংকট রয়েছে। বাগেরহাটও এর ব্যতিক্রম নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। সংস্কারের জন্য একটি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। তবে ডাক্তার ও নার্সের পদ শূন্য থাকায় অন্য হাসপাতাল থেকে একজন মেডিকেল অফিসার ও নার্স সংযুক্ত করে সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসা সিজারিয়ান রোগীদের সদর হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।’










