আজকের দক্ষিণ এশিয়ার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যায়। এ অঞ্চলের কিছু দেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চয়তার মোকাবেলাও করতে হচ্ছে তাদের। তার পরেও এখনো এখানকার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ রয়ে গিয়েছে।

অনেকেই এখানকার বর্তমান পরিস্থিতিকে আখ্যা দেবেন ‘সংকট’ হিসেবে। গত দেড় বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় পাঁচটি সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। এর সবই যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে, স্বেচ্ছায় ও অনুমানযোগ্যভাবে ঘটেছে তা নয়। এখানকার তিনটি দেশ এখন আইএমএফ ও আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তায় ঋণ সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে। সহায়তা চাইতে পারে আরো কয়েকটি দেশ।

দুর্বিপাকে পড়ে খাবি খাচ্ছে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। এর প্রধান কারণগুলো হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শ্লথতা ও বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মন্দায় পড়ার আশঙ্কা, রেমিট্যান্স আহরণ হ্রাস, মহামারীতে পর্যটন খাতের আয় কমে যাওয়া, ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীলতা ও রফতানি আয় হ্রাস।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এ পরিস্থিতি নতুন নয়। আবার শুধু এ অঞ্চলের দেশগুলোই যে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে তাও নয়। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, উন্নয়নশীল ৫৩টি দেশ এখন মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো কয়েক বছর ধরেই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যদিও তা মোকাবেলায় অর্থপূর্ণ কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। 

গত এক দশকে কভিড মহামারী, উন্নয়নশীল বিশ্বের ঋণ সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপের অভাব থেকে এটুকু সিদ্ধান্তে আসা যায়, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে কিছু আশা না করাই ভালো। প্রত্যাশা থাকলেও সেটি হওয়া উচিত খুবই কম।

বর্তমান এ সংকটের উত্তর বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছে পাওয়া যাবে না। বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও এ মুহূর্তে খুব একটা ভালো নয়। প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসগুলো নিয়মিতভাবেই সংশোধন করে কমিয়ে আনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম এশিয়ায় এখন মন্দার এক বাস্তব আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শ্লথতার আশঙ্কা রয়েছে চীনেও।

এসব দেশে এখন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনীতি। অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ দুদিক থেকেই। যদিও স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বায়নের দশকগুলোর পরিস্থিতি ছিল এর বিপরীত। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, পরিস্থিতি যদি এমনই হয়, তাহলে এর মধ্যে আসলেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা যায় কি?

এর উত্তর হলো আজকের দিনে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। এতে আমাদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর সুবিধা পেতে সুযোগ সদ্ব্যবহার করার মতো সাহসও থাকতে থাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা নেতৃত্বে যে বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, পৃথিবী এখন সেখান থেকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে কোন দিকে যাচ্ছে, সেটুকু আমরা শুধু আবছাভাবেই ধারণা করতে পারি। এর প্রকৃতিও এখনো নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে বিশ্বায়ন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতি সবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং এর পরিবর্তনও ঘটছে। এর লক্ষণগুলোও আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ক্ষমতার মহাদ্বন্দ্বের প্রত্যাবর্তন, চীনের উত্থান এবং এর ধারাবাহিকতায় জন্ম নেয়া সিনো-মার্কিন কৌশলগত সংঘাত এরই মধ্যে বিবাদের হটস্পটগুলো আবারো সক্রিয় করে তুলেছে, যেমন—সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ চীন সাগর, ভারত-চীন সীমান্ত ইত্যাদি। এখানে লক্ষণীয়, এ হটস্পটগুলোর সবই দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে রয়েছে। চীনের উত্থান দেশটির সামুদ্রিক ও দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এক উভয়সংকটময় পরিস্থিতিরও কারণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ এশিয়া এখন চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের ভূরাজনৈতিক ফল্টলাইনের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ভারত মহাসাগরের কিনারার দেশগুলো (ইন্ডিয়ান ওশেন রিম বা আইওআর), যেটা স্নায়ুযুদ্ধের সময় ছিল না। এতে দক্ষিণ এশিয়ার হাতেও উদ্দেশ্য সাধনেরও বড় একটি উপায় চলে এসেছে। ক্ষমতার লড়াই ও বিবাদের কেন্দ্র হিসেবে বাইরের বড় শক্তিগুলোর মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছে উপঅঞ্চলটি। এখানে আমাদের পরোক্ষ সক্রিয়তা বা অনাগ্রহী দর্শকের ভূমিকা গ্রহণের কোনো সুযোগই নেই। এখানে নেপালিরাও বিষয়টি বেশ ভালো করেই জানে। কারণ নেপাল একই সঙ্গে বিআরআই এবং মুক্ত অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হতে চেয়েছে। তবে ক্ষমতার এ মহাদ্বন্দ্ব এখন নতুন এক সুযোগও তৈরি করছে।

কভিডের আগের দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে। এ সময় বড় শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের যত অবনতি হয়েছে, এফডিআইয়ের পরিমাণও তত বেড়েছে। বিষয়টিকে কাকতালীয় বলা যায় না কোনোভাবেই। আবার ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা বিধিনিষেধ থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, অধিকাংশ দেশই এখন বিকল্প বা তৃতীয় কোনো পন্থা খুঁজছে। ক্ষমতার মহাদ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়তে চায় না কেউই।

এ প্রবণতা শুধু আমাদের নয়। ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার এ মহাদ্বন্দ্ব এবং নানা শঙ্কায় ভরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি দুর্ভাগ্যজনক ফল হলো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংগঠনগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেমন ছিল, এখন তার চেয়েও বেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

কভিড-১৯ মহামারীর সময়েই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ সময় বহুপক্ষীয় সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক। আর বড় শক্তিগুলো এ সময় মানবিক সংকট মোকাবেলার চেয়ে বিতর্ক জয় আর রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের দিকে মনোযোগ দিয়েছে বেশি। দেশগুলো আবার এসব সংগঠনেরই সদস্য। তারা যদি একে অন্যের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সংগঠনগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ সংকট মোকাবেলার কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তাদের একে অন্যের প্রতি সহযোগিতামূলক অবস্থান নেয়াটাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ মুহূর্তে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এশিয়া। এ পরিবর্তনই এখন দক্ষিণ এশিয়াকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চে তুলে দিয়েছে। এশিয়া এখন বিশ্বের পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের চূড়ান্ত নির্ধারণও এখানেই হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট এবং হটস্পটগুলোর পাশেই দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান। রাজনৈতিকভাবে এভাবে কেন্দ্রে চলে আসাটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটু অস্বাভাবিক ঘটনা। এভাবে রাজনীতি-অর্থনীতির কেন্দ্রে চলে আসাটা আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নেই।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় দক্ষিণ এশিয়ার পরিচিতি ছিল ভূরাজনৈতিক ব্যাকওয়াটার হিসেবে। এ সংজ্ঞা আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশই বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের মতো করে চলতে চেয়েছে। কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও বিশ্বায়নের প্রক্রিয়ায় সবকিছু এখন বদলে গিয়েছে। ভারতসহ এ অঞ্চলে আমাদের সবারই অর্থনীতি নানা মাত্রায় বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

আর এ জড়িয়ে পড়াটাই আমাদের জন্য সমস্যা ও সুযোগ দুই-ই তৈরি করে দিয়েছে। পরিসংখ্যানগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বায়নের বছরগুলোয় ভালো হয়। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার যারা এ সুযোগ ও সংযুক্তিকে কাজে লাগিয়েছে, তারাই অর্থনীতি ও জনকল্যাণের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো করেছে।

আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও ভূরাজনৈতিক সুযোগ উভয়ই প্রমাণ করছে, দক্ষিণ এশিয়া এখন বিশ্বায়িত পৃথিবীর অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছে। এ সংযোগই এখন আমাদের অনেক সমস্যার উৎস। আমার মতে, এটি পরিবর্তনের বা অস্বীকারের সুযোগ নেই এবং বিশ্বের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়াটাও আমাদের সমস্যার ভালো কোনো উত্তর হতে পারে না। বরং আমাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে গোটা বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের আচরণ এবং আভন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মাধ্যমে।

তাহলে আমাদের করণীয় কী? বিশ্বায়ন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতি যখন সমস্যার মধ্যে তখন আমাদের সমাধান আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। অন্য কথায়, আমরা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে পারি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি ও সহযোগিতার মাধ্যমে এবং বাকি বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন এবং নতুন পরিস্থিতির সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে।

গোটা অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একযোগে কাজ করা উচিত। আমাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে সাধারণ এ পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছে এবং এ পদক্ষেপ যে-ই বাস্তবায়ন করেছে, লাভবান হয়েছে। এক্ষেত্রে সড়ক, রেল, জ্বালানি ও সম্ভাব্য অন্যান্য ক্ষেত্রে কানেক্টিভিটি তৈরি করাই হলো মূল চাবিকাঠি।

আরেকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে পেমেন্ট ব্যবস্থায় উদ্ভাবনমূলক পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে। শ্রীলংকার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোই সহযোগিতা, জ্বালানি, খাদ্য ও ঋণ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভারত শুধু এ বছরই সহযোগিতা দিয়েছে ৩৮০ কোটি ডলারের বেশি। যেখানে বড় ঋণদাতারা এখনো পতনশীল অর্থনীতির দেশটিকে ঋণ দেয়ার শর্ত এবং প্রকৃতি নিয়ে এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দেশগুলোর তাদের নিজ নিজ অগ্রাধিকার রয়েছে এবং তাদের ওপর নির্ভরও করা যায় না। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ওপরেও যে নির্ভর করা যায় না, সে কথাও এরই মধ্যে বলা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বে সংযুক্তির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা উপঅঞ্চলগুলোর একটি হলো দক্ষিণ এশিয়া। কারণ আমরা এখনো আমাদের প্রতিবেশীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাওয়ার মতো সাপ্লাই ও ভ্যালু চেইন তৈরি করতে পারিনি।

আরেকটি সুযোগ তৈরি করতে পারে জ্বালানি। এ খাতে দক্ষিণ এশিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকারক। বর্তমানে আরো সবুজ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের বিপ্লব ঘটছে। দক্ষিণ এশিয়ার সামনেও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ। এরই মধ্যে এ অঞ্চলে জলবিদ্যুতের বড় উৎস হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখিয়েছে নেপাল। এক্ষেত্রে শ্রীলংকাও সমান সুযোগ তৈরি করতে পারে বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে। আর সৌরশক্তি আমাদের সবারই সম্পদ। যদি আমরা পুরনো দিনের দ্বিধা ও সংকীর্ণতা ঝেড়ে ফেলতে পারি, তাহলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করে দেবে।

সার্ক, বিমসটেকসহ আমাদের উপআঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারো শক্তিশালী করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো দেশকেই অন্যদের ওপর ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়ার মাধ্যমে সহযোগিতার পথ রুদ্ধ করে দেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত হবে না।

গোটা বিশ্বেই এখন দক্ষিণ এশিয়া থেকে যাওয়া বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতরা এখন তাদের নতুন আবাসস্থলের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। বহির্বিশ্বে আমাদের নিয়ে ধ্যানধারণা পরিবর্তন এবং আমাদের উন্নয়ন খাতে নীতির প্রয়োগ ও অর্থনৈতিক অবদানও বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোয় রেমিট্যান্সের ভূমিকা দেখলেই তা বোঝা যায়।

আমাদের নিজ নিজ রাজনীতিরও দায়িত্বও নিতে হবে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সাধারণ একটি লক্ষ্য হিসেবে নিতে হবে। নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতামূলক অবস্থানের ভালো নজির রয়েছে। ২০০৮ সালের পর সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে যে কর্মসূচি নিয়েছিল, সেটিই এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কানেক্টিভিটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নিজেদের অভিন্ন স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

(শিবশঙ্কর খেরা, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। লেখাটি মূলত নেপালে সম্প্রতি আয়োজিত কান্তিপুর কনক্লেভে তার দেয়া বক্তব্যের সংক্ষেপিত অনুবাদ।)