লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অপহৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনকে (৫৪) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানী তেজগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৬ জানুয়ারি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ পরিচয়ে ওই শিক্ষককে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি উপজেলার দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বেলুয়া বাজার ভোলারপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল বারী (৪৩) ও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারানদিয়া ইউনিয়নের ভূগী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিউল আলম প্রধান (৩৯)।

গতকাল বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান লালমনিরহাট পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, ৬ জানুয়ারি ভোরে কালো রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস ও সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ১২-১৩ জনের একটি অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা নুরুল আমিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই সময় নুরুল আমিনের ভাই, স্ত্রী ও চাচা ডিবি পুলিশের পরিচয় জানতে চাইলে তাদেরও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা। এ ঘটনায় নুরুল আমিনের ছেলে আব্দুর রউফ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা করেন।

পুলিশ সুপার দাবি করেন, অপহৃত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন ও অপহরণকারীদের মধ্যে আগের টাকা লেনদেন থাকতে পারে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাকরি দেয়ার কথা বলে আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় তাকে অপহরণ করা হতে পারে।

আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন আমাদের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’