লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের দালালবাজার থেকে রামগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দালালবাজার থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায়। বাকি অংশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলজিইডির আওতাধীন ৯ কিলোমিটার এখন সম্পূর্ণ বেহাল। বিশেষ করে চৌধুরীবাজার, কাফিলাতলি থেকে মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটিতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ।

সড়কটির দুই পাশে রয়েছে অন্তত ১৫টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছয়টি বড়-ছোট বাজার। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ চলাচল করে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে আর বর্ষায় কাদা পানিতে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

সরজমিন দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, ফাটা কার্পেটিং আর পানি জমে থাকা খানাখন্দ, যানবাহন চলছে হেলেদুলে, ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে সড়কটি মেরামত করা হলেও কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেঙে যায়। এখন পুরো সড়কটিই যেন মরণফাঁদ।

নন্দনপুর গ্রামের সমাজকর্মী আবদুল মালেক নীরব ও ব্যবসায়ী ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘রাস্তায় এমন গর্ত অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়াও এখন কঠিন। বাজার থেকে পণ্য আনতেও দিতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। অনেক সময় গাড়িচালকরা এ পথে আসতেই চান না।’

দালালবাজার ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সায়েদ বলেন, ‘এ রাস্তায় প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় বই-খাতা নষ্ট হয়, অনেকে স্কুলে পৌঁছতেই পারে না। সময়মতো যানবাহন না পাওয়ায় শিক্ষক ও চাকরিজীবীরাও বিপাকে পড়ছেন।’

পরিবহনচালক আরিফ ও কামাল জানান, ‘সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ১০ মিনিটের পথ যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। যাত্রীদেরও দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দালালবাজার-রামগঞ্জ সড়কটি এলজিইডির অধীনে। এরই মধ্যে সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংস্কারকাজ শুরু হবে।’