সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সহপাঠীর ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ( দুপুর ১টা) অবরোধ চলমান ছিল।

ক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মহাসড়কে একটি তেলবাহী লরির সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান সুরাহা কিংবা আহত শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লরি চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ এবং আহত শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের সুচিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থান নেন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্ঘটনাটি চালকের অসাবধানতার কারণে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ভিপি তৌসিফ আলম বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত এ চার দফা দাবি আদায় না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, ‘তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আমরা সড়ক ছেড়ে দিতে বলেছি।’