রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তৃতীয় দিনে ফরম নিয়েছেন ৫৫০ জন প্রার্থী। রাকসুর কেন্দ্রীয় ১৯টি পদে ১৬৮ জন এবং সিনেটের ৫টি পদে ১৯ জন এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৩৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন। এর আগে গত রোববার ও সোমবার দুই দিনে মনোনয়ন নেন ২৩ জন প্রার্থী।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকেই প্রার্থীরা দলে দলে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের মনোনয়ন সংগ্রহের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় প্রার্থীরা বন্ধু-বান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে, কেউ আবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন তুলতে আসেন। রাকসুতে এ পর্যন্ত যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তারা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তবে এখনো ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন নেননি।

তফসিল অনুযায়ী গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ সময়। তবে তা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাকসুর কেন্দ্রীয় ১৯টি পদে ১৬৮ জনের মধ্যে ভিপি পদে ৭ জন, জিএস পদে ৫ জন, এজিএস পদে ৭ জন, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৫ জন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৩ জন, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৩ জন, সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৪ জন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ৪ জন, সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ৩ জন, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এ ছাড়া বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৭ জন, সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৫ জন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৪ জন, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৩১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে তিনদিন মিলিয়ে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির ৫টি পদে ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৩৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

1000164461

ছবি- বণিক বার্তা

জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে মনোনয়ন নেয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘আজকের পরিবেশটা অনেক আমেজপূর্ণ, তবে অনেকে এখনো মনোনয়ন নেননি। অনেকে দেখছি শোডাউন দিয়ে মনোনয়ন নিচ্ছেন, তবে আমি এই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে আমি আশাবাদী। আমার কণ্ঠস্বর হবে সাধারণ শিক্ষার্থী।‘

মনোনয়ন বিতরণ নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আজ যারা ফরম তুলতে আসছে তারা আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত করছে। শিক্ষার্থীদের যে উৎসাহ, উদ্দীপনা, অংশগ্রহণ সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা যে ৩৫ বছর বঞ্চনার শিকার তার একটা প্রতিফলন হতে যাচ্ছে। আমি আশা করি অত্যন্ত সুন্দর একটা রাকসু আমাদের শিক্ষার্থীরা উপহার দেবে। আমরা তাদের অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে সাহায্য করব।‘

মনোনয়ন বিতরণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন পেছানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, আলোচনা অব্যাহত আছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবির বিষয়ে গতকাল দুপুর থেকে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এরইমধ্যে বেশকিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন পেছানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, আলোচনা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র আবাসিক হল থেকে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর, ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্তি ও সাইবার বুলিং রোধে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন, ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ও ডোপ টেস্ট করতে ৪–৫ দিন সময় লাগবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে মনোনয়ন বিতরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তফসিলের পরবর্তী সময়গুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে। আমরা আবার সভায় বসব। সিদ্ধান্ত নিতে আরো সময় প্রয়োজন।’