গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তিনি কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী রোববার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটা ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। ইতিহাসে আগে কখনো এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এ রকম ক্যাম্পেইন চালু হয়নি। ৬-১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের হামের টিকা দেয়া হবে। পাশাপাশি এপিআইয়ের অন্য টিকা কার্যক্রমও চলবে। বৃহস্পতিবার (আজ) ও শুক্রবারের মধ্যে টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে সারা দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিসেফ থেকে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বিদ্যমান টিকার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে। আগামী দুদিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে হাম মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক শয্যাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সারা দেশে টিকা কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব এলাকায় বেশি সংক্রমণ ঘটেছে সেসব এলাকায় আগে টিকাদান শুরু হবে। হাম রোগ মোকাবেলায় ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
হাম পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু শিশুর মৃত্যু ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভেন্টিলেটর সরবরাহ, আইসিইউ বেড বৃদ্ধি এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা জোরদার করেছে। মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন আইসিইউ সুবিধাও চালু করা হয়েছে।’
এ সময় বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নিয়ে সারা দেশে একটা প্যানিক শুরু হয়ে গেছে। একটা বাচ্চা বিভিন্ন কারণে আক্রান্ত হতে পারে, জ্বর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। জ্বর হলেই হাম হয়েছে, প্যানিক করা—এটা কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং রোববার থেকে যে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শুরু হবে, তাতে যাতে সবাই অংশগ্রহণ করে। সে ব্যাপারে আপনাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে। একই সঙ্গে সরকার, গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ সংকট মোকাবেলা সম্ভব।’










