নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় সুদের টাকা আদায়ের বিপরীতে বিক্রি করা শিশুকে এক বছর পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা এলাকার দক্ষিণ পাশা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রানু বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল ক) মো. নাজমুল হাসান।
শিশুটি মা মোসা. রানী বেগম ফতুল্লার আলীগঞ্জের পিডব্লিউ’র স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত ফালান চৌকিদারের স্ত্রী ও অভিযুক্ত লাকী আক্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
পুলিশ জানায়, ফতুল্লার আলীগঞ্জের পিডব্লিউ’র স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত মোসা. রানী বেগম (২৯) ওই কোয়ার্টারে বসবাসরত লাকী আক্তারের কাছ থেকে নগদ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু সুদসহ সে টাকা পরিশোধ তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। সুদসহ ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য রানী বেগম লাকী আক্তারের বাড়িতে কাজ করতে থাকেন। কিন্তু তাতেও সুদসহ ঋণের টাকা পরিশোধ হয় না। গত বছর তিনি লাকী আক্তারের বাড়িতেই একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তখন ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য নবজাতকটিকে মায়ের অজান্তেই বিক্রি করে দেন লাকী আক্তার। সন্তানকে না পেয়ে প্রায় উদভ্রান্ত রানী বেগমকে ভয় দেখিয়ে জোর করে বাড়িতেই আটকে রেখে কাজ করানো হয়।
এক বছর পর সুযোগ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এসে রানী বেগম লিখিত অভিযোগ করেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। পরে স্থানীয় সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাতে ৬ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল ক) মো. নাজমুল হাসান বলেন, অভিযোগ দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় রানু বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তবে মূল হোতা লাকীসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।










