লালমনিরহাটে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ে ঠিকমতো হয় না বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা অপরিহার্য। তবে এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পরীক্ষণ বিদ্যালয়সহ (পিটিআই) জেলার পাঁচ উপজেলায় ৭৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এগুলো হলো পাটগ্রাম উপজেলায় একটি, হাতীবান্ধা উপজেলায় ১২টি, কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি, আদিতমারী উপজেলায় একটি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এ উপজেলার দক্ষিণ খোর্দ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৫টিতে শিক্ষার্থীদের খেলার কোনো মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ের জমি দূরবর্তী হওয়ায় খেলার মাঠ নেই। টাকার অভাবে নতুন করে স্কুলসংলগ্ন জমি ক্রয় করা যাচ্ছে না। ফলে এসব বিদ্যালয়ে খেলাধুলার মাঠ তৈরির জন্য বিকল্প ভাবতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে। কিন্তু ফলপ্রসূ কোনো সমাধান আসছে না। এজন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণলায়কেই ভূমিকা রাখা উচিত বলে আমার মনে হয়।’ 

আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘গোবর্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত কোনো খেলার মাঠ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের। আমরা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করছি।’

কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলার দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘কালীগঞ্জ উপজেলার পাঁটি বিদ্যালয় ব্যতীত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রয়েছে। কিন্তু তিস্তা নদীর চরের কয়েকটি বিদ্যালয়সহ হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি বিদ্যালয়ে খেলাধুলার কোনো মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে খেলার মাঠসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

লালমনিরহাট দক্ষিণ খোর্দ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কবি ফেরদৌসি বেগম বিউটি বলেন, ‘বিদ্যালয়টির জমি দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফলে বিদ্যালয়টির বহুতল অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে খেলাধুলার মাঠ নেই। আমরা বিদ্যালয়ের পাশের লোকজনকে অনেক বুঝিয়েছি মাঠের জন্য জমি দিতে। কিন্তু কেউ এতে রাজি হননি। ফলে বিদ্যালয় থেকে কিছুটা দূরের যে জমি রয়েছে, সেখানেই খেলার মাঠ তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না। আমরা বিষয়টি নতুন করে ভাবছি।’  

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। জেলার যেসব বিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ নেই সেগুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মাঠের সমস্যা সমাধান করব।’