নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া ৩৫৪ বস্তা (প্রায় সাড়ে ১৭ টন) কাবিখার চাল জব্দ করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ঘাটে চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। এ সময় নেত্রকোনা সদরের চল্লিশা এলাকার ফজর উদ্দিনের ছেলে লুৎফুর মিয়াকে আটক করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জেলার খালিয়াজুরি উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ১৭ টন ৫৫৪ কেজি সরকারি চাল শুক্রবার রাতে বের করে উপজেলার রসুলপুর ধনু নদের ঘাটে নেয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে প্রশাসন গিয়ে চালগুলো জব্দ করে।

উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, কবীর হোসেন, নগর ইউনিয়নের নারী সদস্য নমিতা রানী, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শিউলী ভৌমিক, শামীম মিয়া কাবিখা প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে চাল তুলে বিক্রি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে খালিয়াজুরীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিন সারোয়ার রসুলপুর ঘাটে গিয়ে চালগুলো জব্দ করেন। তিনি বলেন, ‘‌সরকারি গুদামের চাল ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি না থাকায় তা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাল নিয়ে যাওয়া লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রুবাইদুর রানা বলেন, ‘জব্দকৃত চাল টিআর-কাবিখার। এগুলো উপজেলা চেয়ারম্যান নিচ্ছিলেন। শুক্রবার বিকালে এ চাল বের করা হয়েছে। নির্ধারিত ডিওর মাধ্যমে চাল বের হয়েছে। তারা বের করে কী করবে আমরা তা জানি না।’

জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাব্বানি জব্বার বলেন, ‘এ চালের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে শুনেছি, এগুলো কাবিখা প্রকল্পের চাল। প্রকল্পের সভাপতিরা তুলে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছিলেন।’

তবে নেত্রকোনা জেলা সদরের চল্লিশা এলাকার রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান এক লিখিত প্রত্যয়নে উল্লেখ করেন ৩৫৪ বস্তা চাল তিনি খালিয়াজুরী খাদ্য গুদাম থেকে তুলেছেন। এর আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রব্বানী জব্বারের দেয়া কৃষি ব্যাংকের অ্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া নামের হিসাবে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে এ চাল তুলে দুটি ট্রাকে করে নিয়ে আসার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে বলে তিনি লিখিত বক্তব্যে স্বীকার করেন।