দিনাজপুরের লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। অন্যান্য জেলায় কম-বেশি এ ফলটি উৎপাদন হলেও চাহিদার বড় অংশ আসে এখান থেকে। মাগুরা, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, ঈশ্বরদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লিচু এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে দিনাজপুরের লিচু বাজারে আসতে এখনো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। স্বাদও অতুলনীয়। বিশেষ করে বেদানা লিচু ভোক্তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক ড. এজামুল হক জানান, বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা, মোজাফফরপুরি, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি, হাঁড়িয়া বেদনাসহ দেশে ১০-১২ জাতের লিচু হয়। এসব লিচুর মধ্যে গুণে, মানে, মিষ্টতার দিক থেকে বেদানা লিচু অতুলনীয়। দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় কম-বেশি বেদানা লিচুর চাষ হয়। তবে সদর উপজেলার মাশিমপুর, শিকদারগঞ্জ, মহব্বতপুর, উলিপুর, মামুদপুর ও কসবা এলাকার লিচু উৎকৃষ্টমানের। যেকোনো লিচুর চেয়ে বেদানা লিচুর মিষ্টতা ও শাঁসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য লিচুতে শাঁসের পরিমাণ সর্বাধিক ১৯ শতাংশ। আর বেদানা লিচুতে শাঁসের পরিমাণ ২৮ শতাংশ। পাকলে এ লিচুর রঙ হয় গাঢ় গোলাপি, আকারে গোলাকার। ওপরের খোসা সমৃণ ও পাতলা থাকে। রসালো এ লিচুর ভেতরের আঁটিও ছোট।’
সদর উপজেলার মাশিমপুর, শিকদারগঞ্জ, উলিপুর ও বিরল উপজেলার মাধববাটি, রবিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফলের ভারে ন্যুয়ে পড়া লিচু গাছের ডাল বাতাসে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ‘ঢোকা’ দেয়া হয়েছে।
শিকদারগঞ্জের লিচু বাগান মালিক আব্দুল আহাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চাহিদার ওপর লিচুর দাম নির্ভর করে। অন্যান্য বছর প্রতি ১০০ পিস বেদানা লিচু ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। মাদ্রাজি জাতের লিচু আকার ও মিষ্টতা ভেদে প্রতি ১০০ পিস লিচু ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।’
দিনাজপুরে কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, প্রতি হেক্টরের লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫ দশমিক ৬৯ টন। সে হিসাবে এবার জেলায় ৩১ হাজার ২০৪ দশমিক ৯৬ টন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।










