সিলেটের সারি গোয়াইন নদীর ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, টিঅ্যান্ডটি ভবনসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সারি গোয়াইন বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটের গোয়াইঘাট দিয়ে বয়ে গেছে নদীটি। সর্পিলাকার এ নদীর দৈর্ঘ্য ৮৫ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ১১৯ মিটার। সীমান্ত নদী হওয়ায় গোয়াইন দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বালি ও পাথর আসে।

সরজমিন দেখা গেছে, নদীর তীরে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রেস ক্লাব ভবনও রয়েছে।

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এমএ মতিন বলেন, ‘গোয়াইন নদীর তীরবর্তী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনের অংশের প্রায় ২০০ ফুট এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ডাকবাংলোর সীমানাপ্রাচীরের নিচের মাটি বিলীন হয়ে প্রাচীরের কিছু অংশ ঝুলে আছে। এছাড়া ডাকবাংলোর সামনের অংশের মাটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় উঠান ও ভেতরে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ডাকবাংলো নয়, আরো ভবন রয়েছে নদীর তীরে। আগে থেকে গুরুত্ব না দিলে ভেঙে পড়তে পারে অনেক স্থাপনা।’

গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা টিঅ্যান্ডটি ভবনের সামনে অংশের মাটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সেটিও ঝুঁকিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষ খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য মাপজোক করা হলেও কার্যত কাজের কাজ কিছুই হয় না।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডাকবাংলোটি সিলেট জেলা পরিষদের অধীনে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে গত মাসে জেলা পরিষদের উন্নয়ন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক/রাজস্ব) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দেবজিৎ সিংহ জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন পরিদর্শনে যাবে একটি টিম। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।