খাগড়াছড়ির গুইমারায় প্রবাসী মমিনুল হককে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গতকাল দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজা মো. আলমগীর হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলার রামগড়ের চৌধুরীপাড়ার মানিক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৪), একই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ফিরোজ (২৮), গুইমারা উপজেলার রেনুছড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. আবুল কালাম (২২) এবং একই এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল আসাদ ওরফে মিঠু (২০)। এর মধ্যে আবুল আসাদ ওরফে মিঠু পলাতক রয়েছে। অন্য আসামিরা খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে রয়েছে।

খাগড়াছড়ির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিধান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মমিনুল হকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্বামী মমিনুল হককে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রবীন্দ্রপাড়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গলে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয়রা নিহতের মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। এ মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিধান কানুনগো। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।