কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়ায় কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন বসতভিটা, রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ, ইটভাটা স্থাপন, কল-কারখানা ও নগরায়ণে প্রতি বছর ১ শতাংশ কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় একদিকে যেমন আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন কৃষি আবহাওয়াকে দূষিত করার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যাহত করছে বলে অভিমত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের।

গতকাল সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ডিজিটাল কর্নারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত ‘কৃষিজমির বর্তমান অবস্থা, সংকট, সংকটের কারণ এবং সমাধানের পথ’ শীর্ষক সেমিনার ও মতামত সভায় এসব কথা বলেন তারা।

সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা করিমুল হক বলেন, ‘কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া রোধে জমির শ্রেণী চিহ্নিত করে জোনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। জোনিং পদ্ধতি চালু করা গেলে কৃষিজমি সুরক্ষা সম্ভব হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পতিত জমিকে কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।’

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় পানিতে লবণাক্ততা থাকবে এটা স্বাভাবিক। এজন্য জোনিং পদ্ধতি চালু করে প্রতিটি জমিকে আলাদা করতে হবে। খাদ্য সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। মানুষ আগের তুলনায় বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সবকিছু পরিকল্পিতভাবে করতে না পারলে আগামীতে আমাদের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়বে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিজমি কমবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের অল্প জমির সঠিক ব্যবহার করতে হবে। রাস্তার আশপাশের জায়গা ও মৎস্য ঘেরের আইল ব্যবহার করতে হবে। কৃষিজমিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিজমির অপব্যবহার রোধ করতে হবে। প্রস্তাবিত কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন দ্রুত চূড়ান্ত করে কার্যকর করলে এটা সহজ হবে।’