সাভারের আমিনবাজারে ৩০ বছরের বেশি সময় আগে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ করা হয়। দুই সপ্তাহ আগে প্রধান লাইনে লিকেজ থেকে আগুন লাগে। এরপর নিরাপত্তা বিবেচনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা। বন্ধ হয়ে গেছে সিএনজি স্টেশন। উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। দুর্ঘটনার পর থেকে মেরামতকাজ শুরু করলেও এখনো শেষ হয়নি। আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমিনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বড়দেশী গ্রাম। ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামটিতে গ্যাস নেই প্রায় দুই সপ্তাহ। রান্না করতে হচ্ছে লাকড়ির চুলায়। এ সুযোগে লাকড়ির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।
গ্যাস না থাকায় প্রভাব পড়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। বন্ধ হয়ে গেছে সিএনজি স্টেশনগুলো। অনলাইন সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার সুমন জানান, গ্যাস না থাকায় সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা। চলতি মাসের খরচসহ কর্মচারীদের বেতন কীভাবে দেবেন, সেই চিন্তা ভর করেছে তার মাথায়।
গ্যাসের পাইপ লিকেজের কারণ হিসেবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, যেখানে লিকেজ হয়েছে তার পাশেই চামড়ার আড়ত। আগে লবণের গুদাম ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চামড়ায় ব্যবহার করা লবণ পাইপ ক্ষয় করতে পারে। যেখান থেকে লিকেজ হতে পারে।
তিতাসের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রিফাত আবদুল্লাহ জানান, ‘পাইপলাইন মেরামত করতে গিয়ে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত খনন করতে হয়েছে। কিন্তু শুধু বালি ও পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে খনন করা যাচ্ছে না। এজন্য ক্রেনের সাহায্যে পাইলিং করে চারপাশে লোহার শিট দিতে হচ্ছে। যদি মাটি থাকত তাহলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো যেত। এখানে শুধু বালি আর পানি। গর্ত করে রাখা যাচ্ছে না। ভেঙে পড়ছে। এ কারণে ক্রেন এনে পাইলিং করে লোহার শিট দিয়ে সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। এরপর মূল লাইনে কাজ শুরু করা যাবে। লোডশেডিংয়ের কারণে টানা কাজ করতে পারছি না। আশা করছি দুইদিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’










