পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া অদম্য মেধাবী ছাত্রী তামান্না নূরার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তামান্নার সঙ্গে ৪ মিনিট কথা বলেন তিনি। এ সময় তামান্নাকে অভিনন্দন জানিয়ে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে তামান্নার মোবাইল ফোনে কল করেন তিনি। এর আগে তামান্নার ফোন বন্ধ পেয়ে তাকে একটি বার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানাও কথা বলেন তামান্নার সঙ্গে। তামান্নার বাবা রওশন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঝিকরগাছার আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন দম্পতির মেয়ে তামান্না। তিন ভাইবোনের মধ্যে তামান্না বড়। দুই হাত ও এক পা নেই তার। শুধু বাঁ পা নিয়ে জন্ম নেয়া তামান্না শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এ বছর এইচএসসিতে জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন।
তামান্নার বাবা জানান, সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা তামান্নার সঙ্গে কথা বলেন। পরে সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা দুজনে তিন-চার মিনিট করে কথা বলেছেন। দুজনই তামান্নার খোঁজখবর নেন এবং স্বপ্ন পূরণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
রওশন আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে তামান্নাকে অভিনন্দন জানান। বলেছেন, তোমার পরীক্ষার ফল সত্যিই অভূতপূর্ব। কথা বলার একপর্যায়ে তামান্না আনন্দে কেঁদে ফেলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, তুমি কাঁদছো কেন। তোমার স্বপ্ন পূরণ হবে।
এ বিষয়ে তামান্না নূরা জানান, আমার চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী কল দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি এগিয়ে যাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি। তোমাকে যাবতীয় সহযোগিতা করব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে একটি আবেদন করতে বলেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিকরগাছার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তামান্না। বাঁ পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৫ পেয়েছেন তিনি। এর আগে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন।
এরই মধ্যে স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা ও দেখা করতে চেয়ে চিঠি লিখেন তামান্না। সেই চিঠি তার বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হকের কাছে জমা দেন। পরে ওই চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান ইউএনও। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তামান্নাকে ফোন করেন। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হক বলেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেন তামান্না। ওই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সোমবার তামান্নাকে ফোন করে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা শিক্ষার্থী তামান্না নূরার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তারা তাকে উৎসাহ ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে যশোর শহরের আরএন রোডের ব্যবসায়ী রিপন অটোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজাজ উদ্দিন টিপু তামান্না নূরার আজীবন লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় দৈনিক কল্যাণ-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।










