টানা তিন মাস দুই দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রোববার (৩ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে জেলেরা সকাল ৬টা থেকে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে আসতে শুরু করেন। ফলে কয়েক মাসের স্থবিরতার পর কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে রাঙ্গামাটির প্রধান বিপণন কেন্দ্র, কাপ্তাই, মারিশ্যা ও মহালছড়ি উপকেন্দ্র।

ঘাট এলাকাজুড়ে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীরা। বরফকলের শ্রমিকরা ব্যস্ত বরফ ভাঙতে, জেলেরা মাছ নামাচ্ছেন, আর ব্যবসায়ীরা তা বরফসহ ড্রামে প্যাকিং করে বিভিন্ন জেলার ট্রাকে তুলছেন। মাছ বাজারজাত করার আগে ঘাটেই শুল্ক পরিশোধ করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রথম দিনে আহরণ করা মাছ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক ব্যবসায়ী খুশি হলেও কেউ কেউ মাছের আকার ছোট হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, কিছুদিন পরে মাছ ধরার অনুমতি দিলে আরো বড় মাছ পাওয়া যেত। তবে এবারের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়ের আশা প্রকাশ করেছেন কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম।

1000026777

তিনি বলেন, হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও পোনার সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। চলতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা আরো দুই দিন বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। ৩ আগস্ট থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়। গত বছর ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছিল। এবার তা আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজ বলেন, ৯৪ দিন পর হ্রদ খুলেছে। তবে মাছ ছোট আকারের হওয়ায় বাজারজাতকরণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আরো কিছুদিন সময় পেলে মাছ বড় হতো।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী ও কাউখালী ছাড়া বাকি আট উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়ি উপজেলার মোট ১০টি উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার জেলে পরিবার কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। মাছ আহরণের শুরুতে তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।