বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভাঙা অংশ নিয়ে ১০ বছর কেটে গেছে। তবু মেরামত করা হয়নি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালারতাইড় সেতু। ফলে নদী পারাপারে ১০ বছর ধরে ভোগান্তির শিকার নয় গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ।

নিজেদের তৈরি করা এক অংশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বর্তমানে সেতুটি এত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে, সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় চাষীরা ধান কাটার পর সহজে তা পারাপার করতে পারছেন না। তাই সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, বগুড়া সারিয়াকান্দির কুতুবপুর ইউনিয়নের শোলারতাইড় গ্রামের কালারতাইড় পাড়ায় বাঙালির শাখা নদীর ওপর ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করা হয় কালারতাইড় সেতু। এ সেতুর উভয় পাশে রয়েছে পাকা সড়ক। সেতুর দক্ষিণ পাশে রয়েছে শোলারতাইড়সহ নয়টি গ্রাম। গ্রামের মানুষের ৯০ শতাংশ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় ধান, পাট, কলা, মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। কৃষিপণ্য বেচাকেনা ও অন্যান্য প্রয়োজনে এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এ সেতু হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। ২০১২ সালে বন্যায় বাঙালি নদীর ভাঙনে সেতুটির দক্ষিণ অংশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। ফলে সেতুর দক্ষিণ অংশের এলাকাবাসী উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। এলাকাবাসী তখন যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে কুতুবপুর হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত শুরু করে। কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সেতুটির ভাঙা অংশে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। ওই সাঁকো দিয়ে এলাকাবাসী এখন ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলাচল করছে। কখনো দু-একটি মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পুরনো এ সেতুটির দুই পাশের রেলিংও ভেঙে পড়েছে।

শোলারতাইড় গ্রামের কালারতাইড় পাড়ার কৃষক ফরিদ উদ্দিন জানান, আগে এ সেতু দিয়ে অটোরিকশা, অটোভ্যান, বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করত। সংযোগ সড়কটি ভাঙার পর থেকে কিছুদিনের জন্য কৃষিপণ্য পরিবহনে ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও বর্তমানে তাও বন্ধ রয়েছে। সেতুর ভেঙে যাওয়া সংযোগ সড়কসংলগ্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও সেটি এখন নড়বড়ে। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কাঁধে করে নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। চলতি বোরো মৌসুমে ধানকাটার পর সেটিও কাঁধে করে বহন করতে হচ্ছে। সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করলে এলাকার হাজার হাজার কৃষকের দুর্দশা লাঘব হবে।

স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম জানান, বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনকে দফায় দফায় জানানো হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেতুটি মেরামত না করায় প্রায় প্রায় ১০ বছর ধরে ৯ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

একটি কোম্পানির পণ্য ডেলিভারিম্যান আরমান হোসেন জানান,  সেতুর উত্তর অংশে গাড়ি পার্ক করে হাতে বা কাঁধে করে হেঁটে দক্ষিণাংশের বাজারে দোকানে ও গ্রামগুলোয় পণ্য ডেলিভারি দিতে হয়। কয়েক বছর এভাবেই চলছে। অথচ সেতুটি মেরামত করা হলে দুই পাশের ৯ গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর হয়ে যেত। 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সুজন জানান, সেতুটির সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে কাজলা, ছোট কুতুবপুর এবং বৃহৎ শোলারতাইড় গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার। তারা কয়েক কিলোমিটার ঘুরে কুতুবপুর হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এ বিষয়টি প্রশাসনকে বহুবার অবহিত করা হয়েছে। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু আজও সেতুটি মেরামত করা হয়নি। চলতি বছরও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। কবে নাগাদ কাজটি শুরু হবে তা কেউ বলতে পারেনি।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. তুহিন সরকার জানান, সেতুটি প্রায় অকেজো। আড়াই মাস আগে একটি প্রতিনিধি দল সেতুটি পরিদর্শন করে সেখানে ৬৬ মিটার একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নকশা অনুমোদন পেলে দরপত্র আহ্বান করা হবে।