রংপুরে এখন পর্যন্ত কভিড আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এ ধরনের রোগী ভিড় করছেন। বিশেষ করে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন নার্স উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছা. সামছুন নাহার বেগম।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেডিসিন ওয়ার্ডের দুটি পুরুষ বিভাগে শয্যা রয়েছে ১১০টি। সেখানে রোগী রয়েছে ১৭২ জন। শিশু বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে ৮০ শয্যার বিপরীতে রোগী রয়েছে প্রায় ২০০। তাদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত।
কভিডের অন্যতম লক্ষণ হলো প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট। জেলায় এখনো কভিড আক্রান্ত রোগী না পাওয়া গেলেও সরকারি হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল এ-সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো চাহিদাপত্রে তিন হাজার পিস র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও পিসিআর (কভিড পরীক্ষার মেশিন) ল্যাবের ইনচার্জ ডা. এমএ আজিজ মেডিকেল কলেজের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।
চাহিদাপত্রে কিট, জনবল, পিপি, সার্জিক্যাল গ্লাভসসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের কথা বলা হয়েছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন ডা. এমএ আজিজ।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে ওষুধের স্টোররুমের ফার্মাসিস্ট মো. ফিরসাদ হোসেন জানান, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রোগের ওষুধ উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে কিছুদিন আগে নতুন পিসিআর মেশিন আনা হয়েছে।
রমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কভিড প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল ইসলাম বাবলু জানান, দেশে কভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রংপুরের অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটের বুড়িমারী, দিনাজপুরের হিলি এবং পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধাসহ অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন কাজে লোকজন আসা-যাওয়া করছে। এজন্য কভিড নিয়ে ভয়টা আরো বেশি। তাই দ্রুত সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।










