সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মাণাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার উদগল হাওরের নিয়ামতপুর ও জয়পুর গ্রামের মধ্যবর্তী বাঁধটি কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ছায়ার হাওরে শুকনায় থাকা অবশিষ্ট ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত উদগল হাওরের বাঁধটি রাতের কোনো এক সময়ে কেটে দেওয়া হয়। ফলে উদগল হাওরের পানি দ্রুত ছায়ার হাওরে ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে আশপাশের গ্রামের কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
এ বিষয়ে ছায়ার হাওরের কৃষক উজানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, ছায়ার হাওর ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতায় পানির নীচে আছে। এখন শুনছি বাঁধ কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। বাঁধ দিয়ে হুঁ হুঁ করে পানি আসছে আমাদের হাওরে। এটি যদি বন্ধ করা না যায় তবে উঁচু এলাকার ধান ক্ষেতগুলো তলিয়ে যাবে। দ্রুত কাটা বাঁধ মেরামত করতে হবে।
ছায়ার হাওরের কৃষক সবিনয় শীল বলেন, অতিবৃষ্টিতে এমনিতেই আমাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পানি কমতে শুরু করায় উঁচু জমির কিছু ধান ঘরে তোলার আশা ছিল। কিন্তু আবার রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে দেওয়ায় অবশিষ্ট ফসলও তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা না হলে শুধু ফসলই নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ শাল্লা উপজেলার মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এই বাঁধ। ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত বাঁধটি পুনরায় মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পাউবোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে এবং আজকের মধ্যেই ভাঙা অংশ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।










