নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর দেড় কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত এ এলাকায় মাছ শিকার নিষিদ্ধের বিষয়টি বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড টানিয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে মৎস্য বিভাগ। তার পরও দিনভর অভয়াশ্রমে মাছ শিকার করছেন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। কেউ দিনভর মাছ ধরছেন বড়শি ফেলে। আবার কেউ দিনে-রাতে নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে শিকার করছেন।

তবে জেলেরা বলছেন, মাছ শিকারে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় জালসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিনিময়ে জালে ধরা পড়া বড় আকারের মাছ নামমাত্র মূল্যে কিনে নেন তারা। নদীতে অভয়াশ্রম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে মাছ ধরছেন অনেকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন।

নদীতে নিয়মিত বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ইকরতারা গ্রামের মোহাম্মদ হানিফ। তিনি বলেন, ‘বড়শি দিয়ে পুঁটি ছাড়া তেমন কোনো মাছ শিকার করা যায় না। তাই এতে খুব বেশি অন্যায় হচ্ছে না। কিন্তু অভয়াশ্রমে নিয়মিত চায়না এবং কারেন্ট জাল দিয়ে মা মাছ শিকার করছে কয়েকটি চক্র। এদের কারণে ডিম ছাড়ার আগেই মাছগুলো নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। নদী আজ মাছশূন্য হতে বসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে দেশীয় মাছের তীব্র সংকট দেখা দেবে।’

একই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে বোয়াল, রুই, মৃগেলসহ বড় মাছ ধরছেন নদীর দুই পাড়ের প্রভাবশালীরা। তারা নিজেরাই অবৈধ এসব জাল শিকারিদের সরবরাহ করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকায় মৎস্য বিভাগ সবকিছু জেনেও নীরব থাকছে। অবাধে মাছ শিকারের কারণে ব্যাহত হচ্ছে প্রজনন।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে নদীপাড়ের ইকরতারা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘অভয়াশ্রম থেকে এ বছর অন্তত ২০ লাখ টাকার মাছ লুট হয়েছে। মৎস্য বিভাগ একাধিকবার এ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেছে। এর পরও তাদের দৌরাত্ম্য কমেনি। রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা এবং সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা দুই দফায় মাছ বিক্রি করা হয়।’

পৌরসভার কোমাইগাড়ী এলাকায় নদীতে ঘের দিয়ে মাছ ধরা শিকার করছেন মোহাম্মদ পিয়াস। তিনি জানান, প্রতি বছর নদীর পানি কমলে ঘের দিয়ে মাছ ধরেন। বড় আকারের বোয়ালসহ বিভিন্ন মাছ জালে আটকা পড়ে। এখানে কিছু মা মাছও আটকা পড়ে। এটা আইনত অপরাধ জানা ছিল না।

সার্বিক বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. বায়েজিদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মৎস্য অভয়াশ্রমে কোনো উপায়ে মাছ ধরার সুযোগ নেই। এটি আইনত দণ্ডনীয়। যারা ছোট যমুনা নদীতে মাছ শিকার করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’