নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমোদন বা পারমিট ছাড়া ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যেকোনো বাগানের গাছ কাটা নিষিদ্ধ। এছাড়া আইন না মানলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও বিধান রয়েছে। এর পরও বান্দরবানে পারমিট ছাড়াই বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বান্দরবান বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি রেঞ্জের আওতায় প্রতি মাসে দুটি করে পারমিট ইস্যু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। তবে সব রেঞ্জ সমভাবে এ লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। পাঁচ মাস ধরে বান্দরবান সদর রেঞ্জে কোনো পারমিট ইস্যু করা হয়নি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের পর্যটন স্পট নীলাচল সড়কের টাইগারপাড়া এলাকায় একটি রিসোর্টের পাশে দেয়াল ঘেরা বাগানে কাঠের ডিপো রয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন বাগান থেকে কাঠ এনে সেখানে মজুদ করা হয়। সেসব কাঠে হ্যামার দিয়ে খোদাই করে পারমিটের কাঠ দেখিয়ে সপ্তাহে চার-পাঁচ ট্রাক বোঝাই পাচার করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে এ ডিপো পরিচালনা করে আসছেন তালুকদারপাড়ার মো. কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমার ডিপোর আগে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে রেইচার সরোয়ার ও ফারুকদের কাঠ রয়েছে। সেখানে কাঠ রাখার জন্য তাদের কোনো অনুমোদন নেই।’

এদিকে পারমিট ছাড়াই সেগুন ও গামার বাগান কাটা হচ্ছে বান্দরবান সদর রেঞ্জের আওতাধীন সুয়ালক ইউনিয়নের ওয়ার্ডের সুলতানপুর জামে মসজিদ এলাকার সোনা মিয়া ঘোনায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা জানান, কামাল নামে এক ব্যক্তির শ্রমিক হিসেবে বাগানের গাছ কাটার কাজ করছেন তারা। তিন সপ্তাহ ধরে প্রায় ১০০টি গাছ কাটা হয়েছে। কাটা গাছের মধ্যে ১০-১২ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৩৫-৪০ ইঞ্চি বেড়ের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ছোট গাছের পরিমাণ কম। ছোট ট্রাকে করে এখন পর্যন্ত পাঁচ গাড়ি কাঠ নিয়ে গেছে। যার ৮০-৮৫ শতাংশ সেগুন কাঠ। বাকিগুলো গামার কাঠ। কাঠগুলো নেয়া হয় রাতে। রাখা হয় টি বোর্ডের সামনে নজির আহমদের কাঠের ডিপোয়।

পারমিট ছাড়া গাছ কাটার বিষয় স্বীকারও করেছেন মো. কামাল। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পারমিট নেই, দুই একরের অল্প পরিমাণ জায়গা। মালিক তার জায়গা বিক্রি করে দিয়েছেন,৷গাছগুলো আমি কিনেছি। আমার ফার্নিচার দোকানের জন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে।’ তবে ডিপোয় কাঠ রাখার বিষয় অস্বীকার করেন তিনি।

বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করব।’