ভারতীয় ট্রানজিটের পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পৌঁছনোর সময়সূচি ঠিক হয়েছে। বন্দরে পৌঁছনোর পর এক সপ্তাহের ভেতর এ পণ্যচালান বাংলাদেশ ত্যাগ করবে। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের শ্যাওলা স্থলবন্দর এবং ভারতের তামাবিল বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রুটে দুটি পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর হতে শনিবার যাত্রা করবে ‘এমভি ট্রান্স সামুদেরা’ জাহাজ। জাহাজটির একটি কনটেইনারে থাকবে ট্রানজিট পণ্য। পণ্য চালান নিয়ে জাহাজটি ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় টাটা স্টিলের এসব পণ্য খালাস হয়ে বাংলাদেশী যানবাহনে কনটেইনারে (নম্বর: ভিএসটিইউ২০৩১০৯০) ২৫ টন টিএমটি বার বা রড ভারতের শ্যাওলা স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতের আসাম রাজ্যে পাঠানো হবে। আবার ফিরতি পথে কনটেইনারটিতে ভারতের ডাউকি এলসি স্টেশন হতে পণ্য বোঝাই করে তামাবিল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে কলকাতা পৌঁছবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভারত থেকে ট্রানজিট পণ্য নিয়ে জাহাজ ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছনোর সময়সূচি রয়েছে। এমভি ট্রান্স সামুদেরা জাহাজটিতে একটি ট্রানজিট কনটেইনার থাকবে। আমরা এর বার্থিংসহ যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করে রেখেছি।’

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীন গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষামূলক চালানগুলোর চলাচল নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পণ্যচালান দেশে আসার পর এক সপ্তাহের ভেতর বাংলাদেশ ত্যাগ করবে, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে এ সময়কাল বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। পণ্যচালান চট্টগ্রাম বন্দর হতে প্রস্থান বন্দর পর্যন্ত পরিবহনকালে এসকট কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবে। 

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর সেকশন ১২৯ এ এবং কাস্টমস ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি-৫ অনুসারে পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পণ্যচালানের জন্য ফি ও চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের ট্রানজিট পণ্য পরিবাহিত হওয়ার বিপরীতে বাংলাদেশ প্রতি টনে সব মিলিয়ে মাশুল পাবে ৫৫৪ টাকা করে। এর মধ্যে প্রতি কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা, প্রতি চালানে ডকুমেন্টশন প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি মেট্রিক টন ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ২০ টাকা, এসকর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিক টন ৫০ টাকা এবং বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ টাকা। এর বাইরে ইলেকট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফি বিধিমালা দিয়ে নির্ধারিত পরিমাণে হবে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, ট্রানজিট সুবিধায় পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দি ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ শীর্ষক চুক্তি হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর। এ চুক্তির আর্টিক্যাল ২ অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটির আওতায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া-আগরতলা রুটে একটি পণ্য চালানের প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রানজিট সম্পন্ন হয়েছিল। ওই সময় ভারতীয় পণ্যবোঝাই চারটি কনটেইনার নিয়ে বাংলাদেশী জাহাজ ‘এমভি সেঁজুতি’ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল।