নারী শিক্ষার্থীদের অর্থিক সুরক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ বিষয়ে আবাসিক হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপাচার্য বলেন, ‘যে সব মেয়েরা অস্বচ্ছলতার মধ্যে আছে, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে, তাদেরকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। তাদের তালিকা প্রণয়ন ও সহযোগিতা প্রদান করা দরকার। এটি কোনো অমর্যাদা বা অসম্মানের বিষয় না। আর্থিক সংকট কিংবা অস্বচ্ছলতা কোন ব্যর্থতা নয়।  বরং এ ধরনের পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারাটা মর্যাদার, সম্মানের।’ 

আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সপ্তম শামসুন নাহার মাহমুদ স্মৃতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৩-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল ডিবেটিং ক্লাবে উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল বণিক বার্তা।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হয়েছে বিরোধী দল হাউজ অব ডিবেটরস এবং রানার্সআপ হয়েছে বঙ্গবন্ধু হল ডিবেটিং ক্লাব। শ্রেষ্ট বক্তা হয়েছেন সরকারি দলের মন্ত্রী রিহাদ রনি। বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘এই সংসদ মনে করে, নারীবাদী আন্দোলনের স্থানীয় সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি আমলে নিয়ে, তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিৎ’।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শামসুন নাহার মাহমুদের জীবন ও কর্মের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, শামসুন নাহার মাহমুদ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করা একটি বড় বিদ্যা। যে মেয়েটি নানা ধরণের প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠতে পারবে। সেই শামসুন্নাহার মাহমুদের উচ্চতায় পৌঁছবে। দেশ-বিদেশের যেসমস্ত মহীয়সী নারীরা সফলতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদার্পণ করেছেন। বিতর্কের মতো কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে নারী শিক্ষার্থীরা বাস্তবিক শিক্ষা অর্জন করবে বলেও মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমাজে নারীর ভূমিকাকে সেভাবে মূল্যায়িত করা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীরা নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। অথচ তাদেরকে আমরা বীরাঙ্গনা হিসেবেই জানি। কিন্তু আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে তাদের ভূমিকাও কম নয়।’

এসময় নারী শিক্ষা উপর গুরুত্বারোপ করে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল বলেন, ‘আমরা আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গর্ববোধ করি। কারণ তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। তাদের জীবন থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হই। যদিও আমাদেরই তাদের অনুপ্রাণিত করার কথা ছিল।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শামসুন নাহার হল ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর সঞ্চারি প্রতিভা, ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার শিউলি আফসার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাহবুব মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন।