গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানা এএ ইয়াং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় সড়ক অবোরোধ করেন শ্রমিকরা। প্রায় ২ ঘণ্টা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। অনেক দিন ধরে তারা বেতন চাইছিলেন। কিন্তু বারবার সময় নিয়েও মালিক পক্ষ বেতন পরিশোধ করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারণে শেষ করা যায়নি। পুলিশের ধাওয়ায় অধিকাংশ শ্রমিক ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
কারখানার শ্রমিক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বেতন দেয়ার কথা প্রতি মাসের ৭ তারিখে। কখনো ১০ তারিখেও দেয়। সেটা মেনে নিয়েছি। অক্টোবরের ২৩ তারিখ পেরিয়ে গেলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন দেয়া হয়নি। সংসার চালাব কীভাবে? বাড়ি ভাড়া, দোকানের বাকি—সবই চাপ বাড়াচ্ছে।’
শ্রমিক জায়েদা খাতুন বলেন, ‘ঘরে চাল-ডাল ফুরিয়ে গেছে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছি না। তাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।’
আরেক শ্রমিক ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।’
এ বিষয়ে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শ্রীপুর থানার ওসি মো. আবদুল বারিক বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সড়ক খুলে দেয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর শ্রমিকরা পুনরায় সড়কে ফিরে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয় এবং পুলিশের একটি জিপের গ্লাস ভেঙে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’










