এছাড়া বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, মোটা ও সরু চালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। যদিও গতকাল বেশকিছু দোকান ঘুরে দামে তারতম্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও ভাটারা নতুন বাজার ঘুরে সবজি ও মুরগির দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকায় সাধারণ মানের বেগুন বিক্রি হলেও গতকাল বাজারভেদে তা ছিল ৭০-৮০ টাকা। ৪০-৬০ টাকার পটোল বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়ার দাম অপরিবর্তিত। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে করলা বিক্রি হয় ৬০-৮০ টাকায়। ঝিঙ্গা ৬০-৭০, কাঁকরোল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০-৬০, কচুরলতি ৭০-৯০, বরবটি ৬০-৮০, শসা ৬০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কাঁচামরিচ ৮০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীতে সবজির গাড়ি কম এসেছে। এতে কিছুটা সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবজির দাম সকালে এক রকম, বিকালে অন্য রকম। গত সপ্তাহের সঙ্গে দাম তুলনা করলে চলবে না। প্রতিদিনই দাম পরিবর্তন হয়। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি, কোথাও কোথাও বন্যা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠ থেকে কৃষক সবজি তুলতে পারছেন না। সেজন্য আবহাওয়া খারাপ হলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। তখন দাম বাড়ে। বড় ধরনের বন্যা না হলে রোদ উঠলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।’

টিসিবির হিসাবে বুধবার থেকে সরু ও মোটা চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ২ টাকা কমেছে। গতকাল সরু (নাজিরশাইল ও মিনিকেট) চাল বিক্রি হয় ৭০-৮৫ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ৭০-৮৫ টাকা। এছাড়া আগের সপ্তাহে মোটা চাল প্রতিকেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ছিল ৪৮-৬০ টাকা। তবে খোলা সয়াবিনের দাম ২ টাকা বেড়ে ১৮৮-১৯৫ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। ডিমের দাম প্রতি হালি ১১০-১২০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিনে পাইকারি চালের বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহে কিছুটা দাম বাড়লেও এ সপ্তাহে স্থিতিশীল ছিল।’

বেড়েছে মুরগির দামও। গত সপ্তাহে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হয়। সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকা, লেয়ার ৩২০-৩৪০ এবং দেশী মুরগি ৬২০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। বড় রুই মাছ ৪৫০-৫৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং ছোট রুই বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়। কাতল আকারভেদে ৩৪০-৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, শিং ৪০০-৫০০ টাকা, পাবদা ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৮০০ টাকা, পাঙাশ আকারভেদে ১৮০-৩৫০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৪০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে শাকিল আহমেদ নামের এক ক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবজির দাম চড়া। মাঝে সামান্য কমেছিল। আবার বেড়েছে। মাছ-মাংসের দামও চড়া। বাজারে কোনো পণ্যে ক্রেতার জন্য স্বস্তি নেই।’