আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপিসহ ৪২ জনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকের দুজন পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অভিযোগে যতজনের নাম রয়েছে। সবার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনো অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে।’

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই কমিটিতে (যাবাক) রয়েছে। চল্লিশের বেশিসংখ্যক সাবেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে তাদের তালিকা ও সম্পদ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন।

অভিযোগে থাকা সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা হলেন—বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ, গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, ঢাকা-২০ আসনের বেনজীর আহমেদ, কুষ্টিয়া-১ আসনের আ ক ম সরওয়ার জাহান, বগুড়া-২ আসনের শরিফুল ইসলাম জিন্না, নাটোর-১ আসনের শহিদুল ইসলাম বকুল, যশোর-১ আসনের শেখ আফিল উদ্দিন, নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দীন তরফদার, যশোর-৪ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ, রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হক, নোয়াখালী-৩ আসনের মামুনুর রশীদ কিরন, খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পটুয়াখালী-৪ আসনের মহিবুর রহমান, গাজীপুর-৫ আসনের মেহের আফরোজ চুমকি, ময়মনসিংহ-১১ আসনের কাজিম উদ্দিন আহম্মদ, যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্য্য, পিরোজপুর-২ আসনের আনোয়ার হোসেন, মাদারীপুর-১ আসনের নূর-ই-আলম চৌধুরী, মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান, জয়পুরহাট-২ আসনের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাগেরহাট-১ আসনের শেখ হেলাল উদ্দীন, রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হক, ঢাকা-২ আসনের কামরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-২ আসনের হাসানুল হক ইনু ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জিয়াউর রহমান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—গত ১৫ বছরে মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে কারো আয় বেড়েছে, কারো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০০ গুণ থেকে কয়েক হাজার গুণ, কারো ক্ষেত্রে সম্পদ ও আয় বেড়েছে লাখ গুণ পর্যন্ত।

দুদক সূত্র বণিক বার্তাকে জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় সম্পদ বেড়েছে এমন রাজনৈতিক নেতাদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। একজন সহকারী পরিচালক এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেন কমিশনে। পরে অনুসন্ধান আর এগোয়নি।