মামলা জটিলতায় জয়পুরহাটের পাঁচ থানায় বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ১২ হাজার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব যানবাহন। এরই মধ্যে চুরি হয়ে গিয়েছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার কারণে নিলাম না হওয়ায় বছরের পর বছর বিভিন্ন থানা চত্বরে পড়ে আছে জব্দকৃত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসব যানবাহনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে বিকল হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত। এসবের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি।
চোরাই পণ্য বা মাদক বহনের দায়ে আটক হওয়া, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, চুরি বা ছিনতাইয়ের পর পুলিশ, বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃক উদ্ধার হওয়া কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে জব্দ করা হয় এসব মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন, যা মামলার অন্যতম আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক হওয়া এ যানবাহনের প্রকৃত জিম্মাদার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত।
আদালত চত্বরে বিভিন্ন মামলার এসব আলামত রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে আটক বা জব্দকৃত এসব যানবাহন (মামলার আলামত) সংশ্লিষ্ট থানা চত্বরে রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তিন কারণে থানায় জব্দ যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে মালিকের না আসা, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া নিলামে বিক্রি করতে না পারা এবং থানা কর্তৃপক্ষ জব্দ যানবাহন সম্পর্কে আদালতকে কিছু অবহিত না করা। এদিকে বিচারিক কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ায় জব্দকৃত এসব যানবাহন নিলামে কিংবা মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না বলে জানান প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন থানা চত্বরে পড়ে থাকা এসব যানবাহন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে অনেকেই এ যানবাহনগুলো কিনে চালাতে পারতেন। এসব যানবাহনের কোনটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন অর্থাৎ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া, আবার কোনটি মামলায় আটক করা। তাই আদালতের নির্দেশ না পাওয়ায় এসব মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন একদিকে যেমন নিলামে বিক্রি করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে একই কারণে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মামলার আলামত এসব মোটরসাইকেলের অধিকাংশ মালিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। এছাড়া কোনো কোনো গাড়ির তুলনায় রেজিস্ট্রেশন কিংবা মামলার খরচ বেশি পড়ায় যানবাহনের মালিকরা আদালতে মামলা পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে আটক যানবাহনগুলোর প্রকৃত জিম্মাদার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। সেখানে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান না হওয়ায় এসব যানবাহন থানা চত্বরে রাখা হয়েছে। তবে আদালতে এসব যানবাহন নিলামের জন্য প্রক্রিয়াধীন। আদেশ হাতে পেলেই নিলামে বিক্রি করা হবে।










