২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান অথনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সহায়তার কোনো উদ্যোগ নেই। প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ যেসব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তার বেশির ভাগই উচ্চাভিলাষী। বাজেটে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে এবারের অর্থনীতির বেশির ভাগ সূচকই নিম্নমুখী, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
গতকাল অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় এসব কথা বলেন অর্থনীতিবিদরা। দেশে কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে নেবে। তখন গুলশান-বনানীর রেস্টুরেন্টগুলোতে আরো বেশি ভিড় হবে।’ এ সময় ব্যবসায়ীদের উজ্জীবিত না হওয়া ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না হলে কোথা থেকে কর আদায় করা হবে, এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, ‘বাজেটে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে চারবার রিশিডিউল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ রকম নীতি থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।’
অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘কালো ও অপ্রদর্শিত অর্থের মধ্যে পার্থক্য করা দরকার। এটি না করা হলে অর্থ পাচার বাড়বে।’
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, ‘যদি কালো টাকাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাদা করার উৎসাহ দেয়া হয়, তাহলে জাতি হিসেবে নৈতিকতার কোনো জায়গা থাকে না।’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘সরকারের পরিচালনা ব্যয় ৪ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যা আয় করবে, তা সরকার পরিচালনায় ব্যয় হবে। জনগণের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কোনো টাকা বরাদ্দ নেই।’










