চিকিৎসক-নার্সসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। উপযুক্ত কক্ষ ও টেকনিশিয়ান সংকটে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন। তালাবদ্ধ কক্ষে নষ্ট হচ্ছে মেশিনটি। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার মানুষ।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপিত হয়।
সেই থেকে হাসপাতালটি উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বাস।
এত মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ আছে ১০টি।
বিশেষজ্ঞ চারটি পদ শল্য চিকিৎসক (সার্জারি), দন্ত্য
চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও গাইনি সবগুলো পদই অনেক দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।
হাসপাতালে নিয়োগ রয়েছে একজন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসারের।
কিন্তু এখানে সরকারি কোনো ওষুধ সরবরাহ ও রোগী না থাকায় ওই চিকিৎসক প্রেষণে অন্য হাসপাতালে কাজ করছেন।
ছয়জন মেডিকেল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন।
কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে আবার চারজন সংযুক্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে আছেন আটজন।
মিডওয়াইফ চার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন।
হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাব নেই।
তবে একটি প্রকল্পের অধীনে একজন ল্যাব টেকনেশিয়ান জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
অন্যদিকে এক্স-রে অপারেটর পদটি ২০১০ সাল থেকে শূন্য আছে।
অপারেটর না থাকায় অব্যবহূত পড়ে আছে যন্ত্রটি।
অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে অনেক বছর ধরে।
দীর্ঘদিন অব্যবহূত থাকায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি।
হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল।
এসব কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও অভিভাবকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে গেলে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
জরুরি বিভাগেও চিকিৎসক নিয়মিত রোগী দেখেন না।
চিকিৎসা সহকারীরা রোগী দেখেন।
বহির্বিভাগ আন্তঃবিভাগ কোনোটাতেই ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা মেলে না।
বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে অনেকে সদর হাসপাতালে চলে যান।
রাজনগর সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের শাহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালে সেবার মান একেবারেই তলানিতে।
এছাড়া ওষুধ পাওয়া যায় না।
আর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে হয় না।
বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে হয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের চেয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে।
যেসব রোগীকে সেবার আওতায় আনা যায় না, শুধু তাদের রেফার্ড করা হচ্ছে।
ইমার্জেন্সিতে যে সাপোর্ট আছে তা দিয়ে যাদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, তাদের দেয়া হচ্ছে।
তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাস বণিক বার্তাকে বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ রোগী দেখা হচ্ছে।
আন্তঃবিভাগে ২০-২৫ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকে।
লোকবল যা আছে তা দিয়েই আমরা চালাচ্ছি।
বিশেষ করে নতুন ভবনটা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।










