তেঁতুলিয়া নদীর শাখা কালিরদোন খালের অবস্থান ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী বাঘমারায়। খালের ওপর নির্ভর করেই এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। এমনিতেই দখলের কারণে খালটি সংকুচিত হয়েছে। এবার খাল ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে ইটভাটা। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফুজ্জামান।
স্থানীয় কৃষকের দাবি, খাল ভরাট করে ইটভাটা স্থাপন করায় তাদের জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়েছে। কৃষিজমিতে সেচ দিতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। খাল দিয়ে খোরশেদ খঁা ঘাট, খায়ের হাট, শান্তির হাট, নাছির হাওলাদার ঘাট, ভেলুমিয়া বাজার, ধুলিয়া, কালাইয়া, কবাই হয়ে কালিশ্বর যাতায়াত করতেন তারা। নৌপথে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে তাদের যেমন সুবিধা হতো, তেমনি খালের পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ব্যবহার হতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৭ সালে খাল ভরাট করে বাবা-মায়ের দোয়া নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও খাল ভরাট করে ইটভাটা তৈরি করায় মোটা অংকের জরিমানার মধ্য দিয়ে ইটভাটা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ছয় বছর পর ভাটার মালিকানা পরিবর্তন হয়ে একই স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সিকদার ব্রিকস। ইটভাটার মালিক মো. আলী আকবর গত বছর ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েই খাল দখল শুরু করেন। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই ইটভাটার চারপাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজ করে করলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদনই দেয়া হয়নি।
যদিও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইট পোড়ানোর কাজ করছি বলে দাবি করেন ভাটার মালিক আলী আকবর। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমার টাকা আছে বলেই প্রশাসন আমাদের কাছে গড়াগড়ি করে।’ খাল ভরাট করে ইটভাটা নির্মাণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি যা পারেন তা লিখেন। আপনার সঙ্গে এত কথা বলার আমার কোনো প্রয়োজন নেই।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোঁতা মিয়া জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগের ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নবায়ন করেছে। তবে খাল ভরাট করে ইটভাটা স্থাপন করার পরও কীভাবে নবায়ন করলেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের অদক্ষতার কারণেই এসব ইটভাটা স্থাপন এবং নদী দখল করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন ভোলা পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতা মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী।










