যুদ্ধ ও মহামারীর অভিঘাতে চরম অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক অর্থনীতি। এ অনিশ্চয়তার বাইরে নেই বাংলাদেশও। এর মধ্যেই আবার চলতি অর্থবছরের বিদায় মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে। চলছে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি। নানা চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছর ও এর বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জগুলোকে নিয়ে ধারাবাহিক ও পর্ব-৪
পুঁজিবাজারে কয়েক মাস ধরেই এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছরই বাজেট প্রণয়নের আগে পুঁজিবাজারের অংশীজনরা বাজেটে বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। পুঁজিবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য আরো বেশি ছাড় প্রত্যাশা করছেন তারা। এরই মধ্যে সব পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে সহজ শর্তে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার। এর আগেও একবার এ সুযোগ দেয়া হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে পারবে কিনা, স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রশ্ন উঠেছে।
আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বিবেচনার জন্য পুঁজিবাজারের অংশীজনরা এরই মধ্যে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। সবাই চাইছেন পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সুযোগ যাতে দেয়া হয়। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে দেয়া বাজেট প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বন্ড ও সুকুকের সুদ আয়ের ওপর আয়কর প্রদান থেকে বিনিয়োগকারীদের অব্যাহতি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করের হার ২২ দশমিক ৫০ থেকে কমিয়ে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ, আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখা, ট্রেকহোল্ডারদের লেনদেনের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্তির পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে কর প্রদানের সুযোগ, করপোরেট বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর বিদ্যমান করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ৫ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বাজেট প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন না তোলা, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের পুঁজিবাজারে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর প্রযোজ্য আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বলবৎ রাখা, লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর বাতিল, করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা, মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশকে আয়করমুক্ত রাখা এবং এসএমই কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে প্রথম তিন বছর করছাড় এবং পরবর্তী সময়ে ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) বাজেট প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট করের বিদ্যমান হার ৩৭ দশমিক ৫০ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় অগ্রিম আয়করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূল্য সংযোজন করের (মূসক) হার কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া।
এ বিষয়ে বিএমবিএর প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, যদি শুধু সহজ শর্তে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যথায় অপ্রদর্শিত অর্থ অপব্যবহারের সুযোগ থেকেই যাবে।
ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর বাজেট প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর অগ্রিম আয়করের বিদ্যমান হার দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, লভ্যাংশ আয়ের ওপর করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা, ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর অগ্রিম আয়করের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মার্জিনাল কর স্ল্যাবের পরিবর্তে ১০ শতাংশ পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত কর নির্ধারণ, করপোরেট বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১৫ শতাংশ পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা, পুঁজিবাজারে শর্তহীনভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান, বিনিয়োগ ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বোচ্চ সীমা মোট করযোগ্য আয়ের ২৫ শতাংশ বা প্রকৃত বিনিয়োগ কিংবা দেড় কোটি টাকা এর মধ্যে যেটি কম তার পরিবর্তে মোট করযোগ্য আয়ের ৩০ শতাংশ বা প্রকৃত বিনিয়োগ অথবা দেড় কোটি টাকা এর মধ্যে যেটি কম তা নির্ধারণ করা।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও বণিক বার্তাকে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে যখন পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, তখন কিন্তু আরো অনেক খাতেই অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ করা কিংবা লুকিয়ে রাখার সুযোগ ছিল। তাই সে সময় খুব বেশি অর্থ পুঁজিবাজারে আসেনি। সরকার কিন্তু এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনআইডি, টিআইএন এগুলো বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছে। এতে পরিচয় গোপন করার সুযোগ কমে আসছে। তার ওপর এখন দেখা যাচ্ছে দেশের বাইরে যেসব অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেগুলোও নিরাপদ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশে অর্থ বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসব অর্থ লেনদেন সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সহজ শর্তে ন্যূনতম একটি করহার বেঁধে দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেয়া উচিত।
পুঁজিবাজারের অংশীজনদের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। এক্ষেত্রে সংস্থাটি চাইছে সরকার যাতে ১০ শতাংশ করের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। এছাড়া করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা বাড়ানো, জিরো কুপন বন্ডের মতো কুপন বিয়ারিং বন্ডের ক্ষেত্রেও কর অব্যাহতির সুযোগ চাইছে কমিশন।
পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এর আগে বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, সেখানে করের পরিমাণ বেশি ছিল, তাই অনেকেই আগ্রহ দেখাননি। এ কারণে এবার আমরা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে করের বিপরীতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলছি। যদিও এটি নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে দু-এক বছরের জন্য এ সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে শক্তির জোগান দেবে।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থবিলেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কর এবং করের ওপর ৫ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। এক বছর পর্যন্ত বিনিয়োগ করা অর্থ পুঁজিবাজারে রাখতে হবে। কেউ যদি এক বছরের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ উঠিয়ে নিয়ে যান, তাহলে সেক্ষেত্রে আরো ১০ শতাংশ হারে জরিমানা গুনতে হবে। পাশাপাশি ২৫ শতাংশ কর ও করের ওপর ৫ শতাংশ জরিমানা দিয়ে নগদ টাকা, ব্যাংক ডিপোজিট, ফাইন্যান্সিয়াল স্কিম ও ইনস্ট্রুমেন্ট, সব ধরনের ডিপোজিট ও সেভিংস ডিপোজিট, সেভিং ইনস্ট্রুমেন্ট অথবা সেভিং সার্টিফিকেট (সঞ্চয়পত্র) বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জায়গা অনুপাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ও জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত জমি, ভবন, অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগের মাধ্যমেও প্রশ্নাতীতভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে অর্থবিলে। অপ্রদর্শিত অর্থ ১০ শতাংশ কর দিয়ে নতুন শিল্পায়নেও বিনিয়োগ করা যাবে।
দেশে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার অবারিত সুযোগ দেয়া হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে। এ অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হওয়ার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। আলোচ্য অর্থবছরের বাজেটে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়। এক্ষেত্রেও আয়কর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। পুরো অর্থবছরেই ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়। এছাড়া ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে একই হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত টাকা বৈধ করার সুযোগ তো রয়েছেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যানুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতা মূলধারার অর্থনীতিতে ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ যুক্ত করেছেন। এসব বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধকরণের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে ২ হাজার ৬৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ সময়ে ৭ হাজার ৫৫ জন করদাতা ১৬ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত বা নগদ টাকা বৈধ করেছেন, যা মোট বৈধ হওয়া অপ্রদর্শিত অর্থের প্রায় ৮২ শতাংশ। এ বাবদ পরিশোধিত কর থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসেনি। অর্থবছর শেষে মাত্র ২৮৬ জন বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪০২ কোটি ৯০ লাখ টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন। এ বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৪ হাজার ৫১৮ ব্যক্তি জমি-ফ্ল্যাট কিনে ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা বৈধ করেছেন। এখান থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৩৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে সেটি খুব বেশি কাজে আসবে না। এজন্য এককভাবে কিংবা অন্যান্য খাতের চেয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় শর্তে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে সেটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলেই যে পুঁজিবাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে তা নয়। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও আস্থার সম্পর্ক থাকাটাও জরুরি।










