প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হবে এবং এর মাধ্যমে সরকারি সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সেবাকে আরো সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজ টিসিবির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থাটির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। উৎপাদক পর্যায় থেকে শহরের খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর পণ্যের দামে বড় ব্যবধান তৈরি হয় এবং সাময়িক ঘাটতিতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

নতুন চালু করা ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড ব্যবহার করে পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। এতে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত উপকারভোগীরা নির্ধারিত পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।

অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ডিলারদের আবেদন, তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আবেদনকারী বেশি হলে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা হবে এবং অনলাইন পেমেন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সহজ করা হবে।

অল-ইন-ওয়ান পিওএস প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি, বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক রসিদ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় কত পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং অনিয়ম ঘটছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া দ্রুত তথ্য সহায়তার জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে একটি নিশ্চিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী এ সেবা পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরেই গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় আরো কমিয়ে আনা হবে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।