ঝিনাইদহে এ বছর কৃষক পর্যায়ে আখের দাম মণপ্রতি ৪০ টাকা বাড়িয়েছে মোবারকগঞ্জ চিনিকল। কৃষকের কাছ থেকে ২২০ টাকা দরে আখ কিনবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। এর আগের বছর আখের দাম ছিল মণপ্রতি ১৮০ টাকা। এ কারণে গত মৌসুমে আখ চাষ কমিয়ে দিয়েছিল কৃষক। চলতি মৌসুমে দাম বাড়ানোয় আবারো চাষে ফিরেছেন কৃষক। এবার পাঁচ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক মাসে ২ হাজার ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। আগামী মাসে আরো প্রায় ১ হাজার একর জমিতে কৃষক আখ চাষ করবেন বলে প্রত্যাশা মিল কর্তৃপক্ষের।

এদিকে শুক্রবার মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৪০ দিনে ৫০ হাজার টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চিনি আহরণের গড় ৬ শতাংশ হলে এ পরিমাণ চিনি উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুমে মিলটি আখের অভাবে মাত্র ২৮ দিনে উৎপাদন শেষ করে। ওই মৌসুমে কৃষক মাঠে আখ রোপণ না করায় সবচেয়ে কম সময় উৎপাদনে ছিল মিলটি। এ সময়ে মিলটি ৩৫ হাজার ৩৬০ টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৭৪৫ টন চিনি উৎপাদন করেছিল। ওই বছর আখের দাম ছিল মণপ্রতি ১৮০ টাকা।

যদিও মিলের রেকর্ড বলছে, এর আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষক ৮-১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ করতেন। নানা প্রতিকূল পরিবেশ এবং অল্প সময়ে ফুল-ফলসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ হওয়ায় কমে যাচ্ছে আখ চাষ। এছাড়া আখের দাম বৃদ্ধিও ছিল অন্যতম একটি কারণ।  চলতি মৌসুমে আখের দাম বাড়ানোয় কৃষক আবারো চাষে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি রোপণ মৌসুমে ৫ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক মাসে ২ হাজার ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। আগামী মাসে আরো প্রায় ১ হাজার একর জমিতে কৃষক আখ চাষ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মাঠে দণ্ডায়মান  তিন হাজার একরের মধ্যে প্রায় দুই হাজার একর মুড়ি আখ থাকবে। সব মিলিয়ে আগামী ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমে আখ রোপণ ও চিনি উৎপাদন বাড়বে। কৃষক আখের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর আখ চাষে ঝুঁকছেন।’