গতকাল সকাল থেকে চালকরা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে সচল রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল।
রাঙ্গামাটি শহরের সঙ্গে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমে কাঠের তৈরি দোতলা লঞ্চ ও স্পিডবোট। লঞ্চে যাতায়াতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রী স্পিডবোটে চলাচল করেন।
অমর বিকাশ চাকমা নামে এক যাত্রী বলেন, ‘জরুরি কাজে বাঘাইছড়ি যাওয়ার জন্য সকালে বের হয়েছিলাম। মারিশ্যা পিকআপে টিকিট পাইনি। তাই দুপুরে স্পিডবোটে করে যাওয়ার জন্য ফিশারিঘাটে গিয়ে শুনি বোট নাকি বন্ধ। তাই আর যেতে পারলাম না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলো যেন চলাচল করতে পারে, সেজন্য ফিলিং স্টেশনে তেল বরাদ্দ রাখার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। এ সংকট নিরসনে আমরা কাজ করছি।’
কামরুল হাসান নামে আরেকজন বলেন, ‘লঞ্চের চেয়ে স্পিডবোটে কম সময়ে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বোটচালকরা বলছেন, তেল না থাকায় বোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আমার লংগদু যাওয়ার কথা। দুপুরে আড়াইটার পর কোনো লঞ্চ না থাকায় বাধ্য হয়ে শহরের আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হবে।’
রাঙ্গামাটি ফিশারিঘাটের স্পিডবোটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা শনিবার থেকে তেল পাচ্ছি না। তাই গতকাল সকাল থেকে বোট চালাতে পারছি না। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসন বনরূপা ফিলিং স্টেশনে স্পিডবোটের জন্য তেল বরাদ্দ রাখতে বলেছে। তবে ফিলিং স্টেশন থেকে বলা হয়েছে আজ তেল আসা সাপেক্ষে ২০০ লিটার দেয়া হবে। তেল পেলে মোটামুটি পাঁচটি বোট চলাচল করতে পারবে। আপাতত তেল সংকটে বোট চলাচল করতে পারেনি।’
রাঙ্গামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পাম্পগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-তিনদিন লঞ্চ চালানোর মতো তেল সংরক্ষণ করে রাখা রয়েছে।’










