তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের দাপটে অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। কনকনে শীতে নগরে খুব একটা কর্মচঞ্চলতাও নেই। ভোর ও সন্ধ্যা নামার পর পরই প্রকৃতিকে যেন গ্রাস করছে কুয়াশার চাদর। গতকাল সকাল ৯টায় বরেন্দ্র অঞ্চলটিতে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই ছিল এদিন দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক থেকে আবহাওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে রাজশাহীতে ঘন কুয়াশা লক্ষ করা গেছে। সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষভাগে তাপমাত্রা ৮-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। জানুয়ারির প্রথমার্ধে তাপমাত্রা নামে ১০-এর নিচে। জানুয়ারির শেষভাগে গিয়ে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।’

আবহাওয়াবিদদের ভাষ্যমতে, চলতি মাসের শেষ দিকে হালকা বৃষ্টিরপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া রাত ও দিনের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমতে থাকবে।

নগরজুড়ে লক্ষ করা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব সকাল ও সন্ধ্যা হলেই গরম কাপড় ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। শীতে নগরীর রাস্তাঘাট থাকছে প্রায় ফাঁকা। এতে রিকশাচালক ও দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। স্বাভাবিক দিনের মতো এ সময় রিকশাচালকরা পান না যাত্রী। তাই জোটে না পর্যাপ্ত উপার্জন।

নগরীর শিরোইল মোল্লামিল এলাকার রিকশাচালক মিনু মিঞা। প্রতিদিন সকাল-বিকাল যাত্রী নিয়ে ছোটাছুটি তার। তিনি জানান, হঠাৎ মঙ্গলবার থেকে হিমেল বাতাসের সঙ্গে প্রচণ্ড শীত বইতে শুরু করেছে। মানুষ খুব জরুরি কাজ ছাড়া বের হচ্ছে না। রাস্তাঘাটে মানুষ না থাকলে ভাড়াও মেলে না। স্বাভাবিক দিনে কম করে হলেও ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা উপার্জন করা যায়। কিন্তু ডিসেম্বরের শীতে ৫০০ টাকা কামানোই দায়।