পটুয়াখালী জেলা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে দুর্ঘটনা এড়িয়ে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তবে অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় সাত বছর ধরে ব্রিজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একদিনের জন্যও ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারেনি পথচারীরা। ফুটওভার ব্রিজটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন।  দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজটি দ্রুত সচল ও পথচারীদের সচেতন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নাগরিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালী চৌরাস্তায় দুর্ঘটনা এড়াতে ও পথচারীদের নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকার কারওয়ানবাজারের ইউথ স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও উত্তর পাশে ব্রিজে ওঠার সংযোগসিঁড়ি নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে নির্মাণের পর থেকেই ব্রিজটি ব্যবহার করছেন না পথচারীরা। নির্মাণের পর থেকেই ব্যবহার না করায় অযত্নে-অবহেলায় ব্রিজটিতে মরিচা ধরে নষ্টের উপক্রম হয়েছে।

চৌরাস্তার ব্যবসায়ী জালাল হাওলাদার জানান, এটা নির্মাণের পর থেকেই পথচারীরা ব্যবহার করছেন না। ওঠা নামার অ্যাপ্রোচ সিঁড়ি অদ্যাবধি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সড়ক পারাপারে কেউ এ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে পারে না।

পথচারী বশির উদ্দিন হাওলাদার জানান, সিঁড়ি না থাকায় পথচারীরা  ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করে না। ফলে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পথচারীরা যেন এটা ব্যবহার করে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া ফুটওভার ব্রিজটিতে ওঠানামার জায়গা আটকিয়ে দোকানঘর বসিয়ে ভাড়া দিয়ে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু লোক।  ব্রিজের নিচে সিঁড়ির জায়গা পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে।

পটুয়াখালীর পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে জানান, ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে। লোকজন ব্যবহার না করায় মরিচা ধরে গিয়েছে।  এছাড়া মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে ফুটওভার ব্রিজটি অপসারণ করতে হবে। তবে দীর্ঘ সাত বছর ফুটওভার ব্রিজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আগের মেয়রের অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।