বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসে মোট ৩৭০টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৭৮টি। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের ১৭০টি পদের বিপরীতে ১০২টি পদ খালি রয়েছে। আর কর্মচারীদের ২০০ পদের বিপরীতে পদ খালি রয়েছে ৯০টি। গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন মহলে। এদিকে জনবল সংকটের কারণে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মৎস্য কর্মকর্তাদের।
বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ১৭০ জন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৬৮ জন, বাকি ১০২টি পদই শূন্য। এর মধ্যে সাতজন সিনিয়র সহকারী পরিচালক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একজন, বাকি ছয়টি পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী পরিচালকের চারটি পদের দুটি পদ শূন্য। একইভাবে উপসহকারী পরিচালকের ছয়টি পদের মধ্যে শূন্য পাঁচটি। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ২১টি পদের মধ্যে শূন্য আছে দুটি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ২১টি পদের মধ্যে শূন্য চারটি। মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ছয়টি পদের মধ্যে সবক’টি শূন্য। মৎস্য সম্প্রসারণ ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার ৩৬টি পদের মধ্যেও শূন্য আছে সবক’টি পদ। খামার ব্যবস্থাপকের নয়টি পদের মধ্যে সবগুলো শূন্য। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তার ৪২টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩২টি। উপসহকারী প্রকৌশলীর চারটি পদের মধ্যে শূন্য আছে তিনটি এবং মৎস্য জরিপ কর্মকর্তার ছয়টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ছয়টি।
বরিশাল বিভাগে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন অফিসে ২০০ কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১১০ জন। বাকি ৯০টি পদই শূন্য। এর মধ্যে সাতজন প্রধান সহকারী থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র চারজন। সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটরের একটি পদও শূন্য। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৫৮টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩৭টি। ক্ষেত্র সহকারী ৪৮টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ১৭টি। স্পিডবোট চালকের তিনটি পদের মধ্যে শূন্য আছে দুটি। পাম্প অপারেটরের আটটি পদের মধ্যে শূন্য আছে তিনটি। হ্যাচারি সহচরের সাতটি পদের মধ্যে শূন্য আছে তিনটি। অফিস সহায়কের ৪৯টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ২২টি এবং নৈশপ্রহরীর পাঁচটি পদের মধ্যে শূন্য আছে তিনটি।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান
জানান, আমাদের জনবল কিছুটা সীমিত রয়েছে। বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছে। এমন সময় জনবল কম থাকার ফলে উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত আমাদের সবারই কিছুটা মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। যদিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সাময়িক সংযুক্তিতে কিছু কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছে। আশা করছি, দ্রুত পদগুলো স্থায়ীভাবে পরিপূর্ণ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে জনবল সংকটে বিভিন্ন কার্যক্রম কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করে বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার জানান, বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৬ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকার, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দিনরাত আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ২২ দিনের এ অভিযান সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহায়তা করে যাচ্ছে। তবে নিজেদের জনবল সংকট এমন সময়ে কিছুটা হলেও অনুভব করছি। ফলে বর্তমানে যারা কর্মরত আছে সবার ওপরই চাপ বেশি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।










