যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী অঞ্চলে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে ১১ ধরনের ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এ অঞ্চলের ছয় হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উপলক্ষে ফুল বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকার কথা ছিল তাদের। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সে ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি। ফলে প্রত্যাশিত সময়ে ফুল বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। বসন্তের হাসির বদলে তাদের মুখে যেন জমেছে আষাঢ়ের মেঘ।

ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী-পানিসারা এলাকার চাষীরা প্রতি বছর বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ব্যাপক ফুল চাষ করেন। এ সময় ফুলের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর নির্বাচনের কারণে কয়েক দিন ধরে বাজার বন্ধ থাকায় ফুল বিক্রি করতে পারেননি বলে জানান চাষীরা।

প্রতিদিন ভোরে গদখালীতে ফুলের হাট বসে। এখানকার ফুলের প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়। বাকি ফুল বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও স্থানীয় পানিসারা-হাড়িয়া ফুল মোড়ে।

সরজমিনে গত শুক্রবার গদখালী এলাকায় দেখা যায়, হাড়িয়া, সৈয়দপাড়া, পটুয়াপাড়া ও ফুলকানন পানিসারা মাঠজুড়ে তারার মতো ফুটে রয়েছে রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওউলাস, জারবেরা ও গোলাপ। তবে বাজার ও পরিবহন সীমিত থাকায় চাষীরা এসব ফুল তুলতেই পারছেন না। বিশেষ করে রজনীগন্ধা ও গ্ল্যাডিওলাস সময়মতো তুলতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

পানিসারা এলাকার ফুলচাষী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমার দুই বিঘা জমিতে জারবেরার শেডে প্রায় সাত হাজার ফুল কাটার উপযোগী রয়েছে। বাজার বন্ধ থাকায় এসব ফুল বিক্রি করতে পারিনি, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ১ লাখ টাকা। অল্প কিছু ফুল গদখালী বাজারে নিয়েছিলাম। কিন্তু একদমই দাম পাইনি।’

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘এবার বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ঘিরে প্রায় শত কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের কারণে বাজার ও পরিবহন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। সাধারণত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ফুল বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসনের নির্দেশে বাজার বন্ধ হওয়ায় মাত্র তিনদিন ফুল বিক্রি করা গেছে। এতে চাষী ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’