মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ যোগ দিয়ে চতুর্থ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি যানবাহনসহ ডুবে যাওয়া রজনীগন্ধা ফেরিটি। খুঁজে পাওয়া যায়নি নিখোঁজ ফেরির সহকারী মাস্টার হুমায়ুন আহমেদকে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডুবন্ত ফেরিটিকে ভাসাতে পারেনি প্রত্যয়। এছাড়া ফেরির মধ্যে থাকা তলদেশে ডুবে যাওয়া নয়টি ট্রাকের মধ্যে এখনো ছয়টির হদিস করতে পারেনি ডুবুরি দল।
সন্ধ্যায় চতুর্থ দিনের উদ্ধারকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, ফেরির নিচের অংশে বাতাস দিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফেরিটিতে বেশ কয়েকটি ফাটল থাকায় এ পদ্ধতি কাজে আসেনি। এখন ফেরির এক পাশে মোটা তার পরানো হয়েছে। অন্য পাশেও পরানোর কাজ চলছে। সেটি হলে পুল দিয়ে দেখা হবে কী অবস্থায় আছে ফেরিটি। এছাড়া ডুবন্ত ট্রাকগুলো শনাক্ত করতে আরো একটি উদ্ধারকারী জাহাজ আনা হচ্ছে। আজ সেটি এলে মাল্টি ভিম ইকো সাউন্ডের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হবে। অন্য দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমকে আপাতত বসিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রাক শনাক্ত করা গেলে সেগুলো তোলার কাজে হামজা ও রুস্তমকে ব্যবহার করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি রজনীগন্ধা। ফেরিতে নয়টি পণ্যবাহী যানবাহন ছিল। রাত দেড়টার দিকে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আটকে পড়ে ফেরিটি। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এরপর বুধবার সকাল ৮টার দিকে ফেরিটি ডুবে যেতে থাকে। এ সময় যানবাহনের চালক, সহকারী ও ফেরিতে কর্মরত লোকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে যায়।










