গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জামায়াতের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন।
রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে।’
তার অভিযোগ, ‘আওয়ামী লীগের কৃপা পেতে জামায়াতে ইসলামী সবসময় চেষ্টা করে। ১৯৮৬ সালে দলটির সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন দাঁড়িপাল্লা দিয়ে একাত্তরকে হালকা করে দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে স্বাধীনতাবিরোধীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।’
নিজের পরিচয় বাংলাদেশী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আমার পরিচয় বাংলাদেশী, এটা ’৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তে যুদ্ধ করেছে।’
জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি জানান, দলটি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নানা অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের বাসভবনে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী জানান, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি ছিল না। প্রদর্শনীতে ৭ মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানরা ২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড়, কোনটা ছোট—এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনো লাভ হবে না। এ জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।’
সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম ও সহসভাপতি ড. কেএম আই মন্টি উপস্থিত ছিলেন।










