উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় চালের মোকাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর। জেলার কয়েকটি থানাসহ রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, জয়পুরহাট, মাদারীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন মোকাম থেকে ব্যবসায়ীরা ধান কিনে ঈশ্বরদীর মিল-চাতালে এনে চাল উৎপাদন করেন। এরপর সেগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করা হয়। এ বছর মোকামে ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা বেড়েছে। এছাড়া সরু চালের দাম বেড়েছে ১৫-২০ টাকা।

ভোক্তারা বলছেন, বাজারে ৬০ টাকার নিচে মোটা চাল মিলছে না। বাসমতীর দাম ঠেকেছে ১০০ টাকায়। মিলার, পাইকার ও খুচরা পর্যায়ে হাত বদলে দাম বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। এর আগে চালের দাম দুই-এক টাকা কমলেও তা এক বা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় না। তবে দাম যত কমছে, তার চেয়ে বাড়ছে বেশি। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে ধান সংকটের জন্য দাম কিছুটা বাড়লেও দাম বাড়ার এমন নজির নেই।

রিকশাচালক ফরহাদ জানান, সারা দিন রিকশা চালিয়ে চাল কিনলে অন্য বাজার আর করা যায় না। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় মুশকিল হয়ে পড়ে।

অবশ্য পাইকারি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দাবি, ধান সংকটে চালের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে পুরো মজুদ গুটিকয়েক কোম্পানির হাতে চলে গেছে। তাদের কারসাজিতেই বাজার অস্থির হয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী উত্তম বরাসিয়া বলেন, ‘মৌসুমের শেষ দিকে দেশী চালের দাম বাড়ছে। করপোরেট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। তবে বোরো ধান বাজারে এলে চালের দাম কমবে।’

জয়নগর মোকামের সম্পদ ট্রেডার্সের মালিক মঞ্জুরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেশির ভাগ হাসকিং মিল এখন বন্ধ। আমরা নতুন ধানের জন্য অপেক্ষা করছি। আগে চাতালনির্ভর চালের সিন্ডিকেট ছিল। এখন আর সেটি নেই। এখন করপোরেট ব্যবসায়ীরা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। খুচরা বাজারে সরু চালের দাম সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা। করপোরেট কোম্পানির এসব চাল ১০ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ এক কেজিতে ১০ টাকা বেশি। অনেকে এসব চাল খাচ্ছেন। বাজারে চালের দাম গত মাসের তুলনায় প্রতি বস্তায় ৫০-২৫০ টাকা বেড়েছে।’

গতকাল জয়নগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশী চালের পাশাপাশি রয়েছে ভারতীয় চালের সরবরাহ। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আমদানীকৃত গুটি স্বর্ণা বা মোটা চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সরু চালের। ৭৫-৮০ টাকার নিচে সরু চাল মিলছে না। মানভেদে এ ধরনের এক কেজি চাল কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। এক-দেড় মাস আগেও এ চালের কেজি ছিল ৭৫-৮৫ টাকা। তবে বাজারে সরবরাহে কোনো সংকট নেই বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পুরোদমে আসতে শুরু করবে নতুন চাল।

খুচরা ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে আসল সরু চাল নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাসমতী চাল মান ভেদে ৯০-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাজিরশাইল ৮০-৮৫ ও কাটারি বা টুম্পা কাটারির প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা।’