মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স সার্ভিস প্রজেক্টের আওতায় সিলেট নগরের কদমতলীতে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল। আট একর জায়গার ওপর নির্মিত টার্মিনালে ব্যয় হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আসাম টাইপ নকশায় নির্মিত টার্মিনালটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তবে নির্মাণের দুই বছরেই টার্মিনালটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৭০ আসনের যাত্রী বিশ্রামাগার, ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, ৩০টি টিকিট কাউন্টার ও আলাদা নামাজ ঘর রয়েছে এখানে। কিন্তু এর কিছুই এখন আর ভালো নেই। টার্মিনালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসানো হয়েছে ১৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এরই মধ্যে এর তিন ভাগের এক ভাগ বিকল হয়ে গেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশ্রামাগার অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাত্রী বসার আসন হয়ে উঠছে ভাসমান মানুষের ঘুমানোর জায়গা। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও টার্মিনালের দামি কাচের গ্লাসে সাঁটানো হয়েছে নির্বাচনী পোস্টার। বসার আসনগুলোয় ধুলার আবরণ। চেয়ারে মরিচা ধরেছে। লাইট ঝুলে পড়েছে।
এসএম আরিফ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ভেবেছিলাম সিলেটবাসী একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল পেল, কিন্তু বাস্তবে হতাশ হওয়া ছাড়া কিছু নেই। পাশের সিটে কোনো ভবঘুরে ব্যক্তি শুয়ে থাকলে আমরা নির্ভয়ে কীভাবে থাকব। কয়দিনই-বা ব্যবহার হলো, এর মধ্যে চেয়ার ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও দেয়ালে ফাটলও দেখা দিয়েছে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সাবেক সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘টার্মিনালটি উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। উদ্বোধনের পর থেকে তদারকির অভাবে টার্মিনালটি অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।’
কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে সিসিকের তদারকি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আলাদা একটি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা উচিত বলে মনে করেন ফারুক মাহমুদ চৌধুরী।
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন বলেন, ‘টার্মিনালটি নামেই আধুনিক। বাস্তবে সিলেটে চালিত বাসগুলোর ধারণক্ষমতা নেই এটির। সিলেট থেকে প্রায় ৮০০ বাস চলাচল করে। এখানে ধারণক্ষমতা আছে মাত্র ২৮০টির। বাধ্য হয়েই সড়কে গাড়ি রাখতে হয়। এখন যে অবস্থা তা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা জরুরি।’
মাত্র দুই বছরে টার্মিনালটির বেহাল দশা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘টার্মিনালের যে অবস্থা, তাতে পুরোদমে সংস্কার দরকার। আরো জায়গা অধিগ্রহণ করে টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা জরুরি।’
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টার্মিনালের সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। সংস্কারকাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। জায়গা সংকট রয়েছে, তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করে টার্মিনাল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’










